আজকের উদ্ভাবকরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, প্যারামাউন্ট ইংলিশ একাডেমির প্রদর্শনীতে মন্তব্য অধ্যাপক বিভাস দেবের
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২২ আগষ্টঃ পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভেতরের উদ্ভাবনী শক্তি ও শৈল্পিক প্রতিভাকে এক সুতোয় বাঁধার লক্ষ্য নিয়ে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শিলচরের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট ইংলিশ একাডেমির বার্ষিক বিজ্ঞান ও কলা প্রদর্শনী। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর আবহে দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সপ্তম থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা ও সুকুমার শিল্পকলার চমৎকার মেলবন্ধন বিমোহিত করেছে আগত অতিথি ও দর্শকদের।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রধান অতিথি, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ বিভাস দেব। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও উদ্বোধনী পর্বের শুরুতেই বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা চন্দনা দাস প্রধান অতিথি ডঃ বিভাস দেবকে গলায় উত্তরীয় ও হাতে বিশেষ সম্মান স্মারক তুলে দিয়ে উষ্ণ সম্মান জানান। উদ্বোধনী মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সম্পাদক সুধাংশু দাস, শিক্ষকমণ্ডলী এবং উৎসাহী শিক্ষার্থীবৃন্দ।
বিজ্ঞান বিভাগের স্টলগুলোতে খুদে গবেষকদের তৈরি কার্যকারী মডেলগুলোর নিখুঁত উপস্থাপনা দর্শক ও বিচারকমণ্ডলীর উচ্চ প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল তত্ত্বকে দৈনন্দিন জীবনের কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা ছিল চোখ পড়ার মতো। বিজ্ঞান প্রদর্শনীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণগুলো হলো, ভারতের মহাকাশ গবেষণার গৌরবময় সাফল্যকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘চন্দ্রযান-৩’ সংক্রান্ত মডেল এবং সৌরজগতের নিখুঁত বিন্যাস।
বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, সৌর শক্তির বহুমুখী ব্যবহার, জল পরিশোধন পদ্ধতি এবং পরিবেশবান্ধব স্বয়ংক্রিয় কৃষি ব্যবস্থা। পাওয়ার ল্যাব ইনভার্টার, নিরাপত্তার জন্য ইলেকট্রনিক ফেনসিং এবং অদৃশ্য আগুনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ‘ইনভিসিবল অ্যালকোহল ফায়ার’-এর মতো রোমাঞ্চকর এক্সপেরিমেন্ট। বর্জ্য থেকে শক্তি তৈরির জন্য ডাইজেস্টার মডেল এবং আধুনিক নগর জীবনের পরিকল্পনায় ‘স্মার্ট সিটি প্রজেক্ট’।
বিজ্ঞান যেমন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে, কলা ও সংস্কৃতি বিভাগ ঠিক তেমনই দর্শকদের নান্দনিক আবেগে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি নকশা, মাটির সুকোমল শিল্পকর্ম, রকমারি চিত্রকর্ম এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের থিমভিত্তিক উপস্থাপনা স্থান পেয়েছিল সেখানে। কলা বিভাগের প্রধান আকর্ষণ ছিল,
দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে নজর কেড়েছে আবেগ ও ভাবনার প্রতীকী উপস্থাপন ‘অনুভূতির বৃক্ষ’ এবং ইউরোপীয় স্থাপত্যের নিদর্শন ‘গথিক ক্যাথেড্রাল চার্চ’। আসামের স্বকীয় সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব, ভারতের বৈচিত্র্যময় হস্ততাঁত মানচিত্র এবং ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প পুতুল নাচ। বাংলা সাহিত্যের দুই মহান দিশারীর অমর কর্মচর্চা, হিন্দি সাহিত্যের দিকপালদের জীবনচরিত এবং অঞ্চলটির ঐতিহ্যবাহী ‘সিলেটি ভাষা’ এর উৎপত্তির ইতিবৃত্ত ও ভাষাগত চর্চা।
প্রদর্শনীর প্রতিটি স্টল ঘুরে শিক্ষার্থীদের ব্যাখ্যা শোনার পর সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি ডঃ বিভাস দেব খুদে শিক্ষার্থীদের এই বিপুল প্রয়াস ও সৃজনশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের আসল কর্ণধার। কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য নতুন চিন্তাধারা ও আধুনিক উদ্ভাবনী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। এই ধরনের আয়োজন তরুণ মনে গবেষণামূলক চিন্তা তৈরির আসল চালিকাশক্তি। তিনি সকল শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ও সাফল্যমণ্ডিত ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
প্রদর্শনীটি সুচারুভাবে পরিচালনা ও সাফল্যমণ্ডিত করে তোলার পেছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সার্বিক তদারকি ছিল প্রশংসনীয়। বিশেষ করে নিশীথ দাস, প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য, পরমা রায়, পরিমল নাথ, অঙ্কিতা দেব এবং শশীকান্ত পাল সহ অন্যান্য সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা এই আয়োজনকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। দিনশেষে খুদে উদ্ভাবকদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছিল নতুন কিছু সৃষ্টি করার অপার আনন্দ।






