নেতাদের ভিআইপি সংস্কৃতিকে তোপ দেগে স্কুল ঠিক করো অভিযানের ডাক অভিজিৎ দীপকের, সরকারি শিক্ষার দুরবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে গণআন্দোলনের আহ্বান

মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার এক অতি সাধারণ গ্রাম সন্তুক পিম্প্রি। শনিবার স্বাধীনতা দিবসের দিন এই গ্রাম থেকেই সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ‘স্কুল ঠিক করো’শীর্ষক এক দেশব্যাপী অভিযানের সূচনা করেন তিনি। দলমত নির্বিশেষে দেশের সমস্ত ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলকে একযোগে তোপ দেগে দীপক বলেন, আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলই সরকারি শিক্ষার মান বাড়াতে সদিচ্ছা দেখায়নি। দেশের সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছেন, এখন আর অলীক প্রতিশ্রুতি নয়, শিক্ষার আসল উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে।

গত ১৪ আগস্ট ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের উপস্থিতিতে আয়োজিত তেরঙ্গা র‍্যালির উদাহরণ টেনে অভিজিৎ দীপক খরচের হিসাব নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানান। র‍্যালির আড়ম্বর নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন র‍্যালির রুটে প্রতি ৪০ থেকে ৫০ ফুট অন্তর বিশাল বিশাল ব্যানার ও তোরণ তৈরি করা হয়েছিল।

এই বিপুল অর্থ কোথা থেকে এল এবং কাদের স্বার্থে খরচ করা হলো? এই অহেতুক প্রদর্শনী ও আত্মপ্রচারের টাকা যদি গ্রামীণ অঞ্চলের জীর্ণ স্কুলগুলির সংস্কারে কিংবা সেখানকার হতদরিদ্র পড়ুয়াদের বই-খাতা কেনার কাজে লাগানো হতো, তবে দেশের ভবিষ্যৎ অনেক বেশি সুরক্ষিত হতো। তিনি অভিযোগ করেন, শাসকরা দেশের কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির সন্তানদের ভবিষ্যৎ গঠনে পুরোপুরি উদাসীন।

প্রতিবেদনে ক্ষোভের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে যখন দীপক দেশের পরিকাঠামোগত অগ্রাধিকার নিয়ে সোচ্চার হন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, সরকার নতুন সংসদ ভবন তৈরি করতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিলাসবহুল আবাসন গড়তে পারে, কিন্তু প্রতিটি গ্রামে একটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও সুরক্ষিত স্কুল ভবন গড়ে তুলতে পারে না কেন? তবে কি কৃষক ও শ্রমিকের ছেলেমেয়েরা দেশের মেধা বা ভবিষ্যৎ নয়?

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একুশ শতকে দাঁড়িয়েও গ্রামীণ ভারতের বহু ছাত্র-ছাত্রীকে মাইলের পর মাইল ধূলোবালি মাখা পথ হেঁটে স্কুলে পৌঁছাতে হয়। বেশিরভাগ স্কুলে পানীয় জলের যোগান নেই, মেয়েদের জন্য নেই পৃথক শৌচালয়। এমন ভয়াবহ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছে।

এই সংকট নিরসনে কেবল সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে বসে না থেকে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপক। সোমবারে তিনি একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করে দুটি মূল দাবি তুলে ধরেন, প্রতিটি সরকারি স্কুলে পানীয় জল, শৌচালয় ও শ্রেণীকক্ষের কী অবস্থা, তা খতিয়ে দেখতে অভিভাবকদের একটি যৌথ নজরদারি দল বা সোশ্যাল অডিট গড়ে তুলতে হবে। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের (সরপঞ্চ) নিজেদের এলাকার সরকারি বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রাথমিক দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে হবে।

রাজনৈতিক মহলে দীপকের এই ‘স্কুল ঠিক করো’অভিযান ইতিমধ্যেই বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সস্তা রাজনীতি আর ফ্লেক্স-ব্যানারের রাজনীতির ভিড়ে তবে কি এবার সত্যিই সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার এই করুণ দশা বদলাবে? দেশবাসী এখন সেই উত্তরেরই অপেক্ষায়।

Related Posts

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন: ডিগ্রিতে জালিয়াতি করলেই কপালে শনি, জাল সার্টিফিকেট জমা দিলেই শ্রীঘরে যাওয়ার রাস্তা পাকা!

ভুঁইফোড় বোর্ডের সার্টিফিকেট দিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না, মেধা ও সততার অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হচ্ছে প্রার্থীদের, শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার…

শিলচরে ব্যবসার নামে লোভনীয় লভ্যাংশের ফাঁদ পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিলচরের বেরেঙ্গার সাদ্দামের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

গ্রেপ্তারির পর জামিনে বেরিয়ে সামাজিক বিচারসভার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ; ২৫ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই উধাও প্রতারক। বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলচরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *