রাজনৈতিক র্যালি ও ব্যানারের নামে কোটি টাকার আড়ম্বর, অথচ গ্রামের স্কুলে মেলেনি শৌচালয়ও
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৫ আগষ্টঃ একদিকে নতুন সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য আলোকোজ্জ্বল নতুন বাসভবন, অন্যদিকে কোটি কোটি টাকা উড়িয়ে একের পর এক রাজনৈতিক শোভাযাত্রা ও ব্যানার-ফ্লেক্সের ছড়াছড়ি। অথচ ঠিক তার উল্টো পিঠে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলিতে আজও মেলে না পানীয় জল, নেই ন্যূনতম শৌচালয়, এমনকি বসার আসনটুকুও জীর্ণ। রাজনীতির এমন বৈষম্যমূলক চালচিত্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে এবং দেশের ভেঙে পড়া সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলে এক ব্যাপক গণআন্দোলনের ডাক দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপক।
মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার এক অতি সাধারণ গ্রাম সন্তুক পিম্প্রি। শনিবার স্বাধীনতা দিবসের দিন এই গ্রাম থেকেই সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ‘স্কুল ঠিক করো’শীর্ষক এক দেশব্যাপী অভিযানের সূচনা করেন তিনি। দলমত নির্বিশেষে দেশের সমস্ত ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলকে একযোগে তোপ দেগে দীপক বলেন, আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলই সরকারি শিক্ষার মান বাড়াতে সদিচ্ছা দেখায়নি। দেশের সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছেন, এখন আর অলীক প্রতিশ্রুতি নয়, শিক্ষার আসল উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে।
নেতাদের ভিআইপি সংস্কৃতি আর টাকার শ্রাদ্ধে বলি সরকারি শিক্ষা, গ্রামে করুণ দশা
গত ১৪ আগস্ট ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের উপস্থিতিতে আয়োজিত তেরঙ্গা র্যালির উদাহরণ টেনে অভিজিৎ দীপক খরচের হিসাব নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানান। র্যালির আড়ম্বর নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন র্যালির রুটে প্রতি ৪০ থেকে ৫০ ফুট অন্তর বিশাল বিশাল ব্যানার ও তোরণ তৈরি করা হয়েছিল।
এই বিপুল অর্থ কোথা থেকে এল এবং কাদের স্বার্থে খরচ করা হলো? এই অহেতুক প্রদর্শনী ও আত্মপ্রচারের টাকা যদি গ্রামীণ অঞ্চলের জীর্ণ স্কুলগুলির সংস্কারে কিংবা সেখানকার হতদরিদ্র পড়ুয়াদের বই-খাতা কেনার কাজে লাগানো হতো, তবে দেশের ভবিষ্যৎ অনেক বেশি সুরক্ষিত হতো। তিনি অভিযোগ করেন, শাসকরা দেশের কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির সন্তানদের ভবিষ্যৎ গঠনে পুরোপুরি উদাসীন।
প্রতিবেদনে ক্ষোভের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে যখন দীপক দেশের পরিকাঠামোগত অগ্রাধিকার নিয়ে সোচ্চার হন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, সরকার নতুন সংসদ ভবন তৈরি করতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিলাসবহুল আবাসন গড়তে পারে, কিন্তু প্রতিটি গ্রামে একটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও সুরক্ষিত স্কুল ভবন গড়ে তুলতে পারে না কেন? তবে কি কৃষক ও শ্রমিকের ছেলেমেয়েরা দেশের মেধা বা ভবিষ্যৎ নয়?
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একুশ শতকে দাঁড়িয়েও গ্রামীণ ভারতের বহু ছাত্র-ছাত্রীকে মাইলের পর মাইল ধূলোবালি মাখা পথ হেঁটে স্কুলে পৌঁছাতে হয়। বেশিরভাগ স্কুলে পানীয় জলের যোগান নেই, মেয়েদের জন্য নেই পৃথক শৌচালয়। এমন ভয়াবহ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছে।
শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান
এই সংকট নিরসনে কেবল সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে বসে না থেকে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপক। সোমবারে তিনি একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করে দুটি মূল দাবি তুলে ধরেন, প্রতিটি সরকারি স্কুলে পানীয় জল, শৌচালয় ও শ্রেণীকক্ষের কী অবস্থা, তা খতিয়ে দেখতে অভিভাবকদের একটি যৌথ নজরদারি দল বা সোশ্যাল অডিট গড়ে তুলতে হবে। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের (সরপঞ্চ) নিজেদের এলাকার সরকারি বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রাথমিক দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে হবে।
রাজনৈতিক মহলে দীপকের এই ‘স্কুল ঠিক করো’অভিযান ইতিমধ্যেই বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সস্তা রাজনীতি আর ফ্লেক্স-ব্যানারের রাজনীতির ভিড়ে তবে কি এবার সত্যিই সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার এই করুণ দশা বদলাবে? দেশবাসী এখন সেই উত্তরেরই অপেক্ষায়।






