দুর্যোগ মোকাবিলায় তরুণ তুর্কিদের প্রশিক্ষণ: সোনাইয়ে সপ্তাহব্যাপী আবাসিক ‘যুব আপদা মিত্র’ শিবিরের সূচনা

গত মঙ্গলবার সোনাই শহরস্থিত সদ্ভাবনা ভবনে এক জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই বিশেষ আবাসিক প্রশিক্ষণের শুভ সূচনা হয়। আগামী রবিবার এক সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হতে চলা এই কর্মসূচিতে প্রশিক্ষার্থীদের দুর্যোগ মোকাবিলার আধুনিক কৌশল শেখানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিশেষ তৎপরতায় এবং ‘মাই ভারত’ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের দক্ষ করে তুলতেই জেলায় জেলায় এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

এই শিবিরে কেবল কাছাড় বা শ্রীভূমি জেলা নয়, সমগ্র বরাক উপত্যকার তিন জেলাসহ পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাও থেকেও কলেজপড়ুয়া যুব-যুবতীরা অংশ নিয়েছেন। সোনাইয়ের সরকারি আবাসিক ভবনে আয়োজিত এই বিশেষ শিবিরে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের দক্ষ অফিসাররা।

যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে আতঙ্কিত না হয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা যায়, তা হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে প্রশিক্ষার্থীদের। বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড বা অন্যান্য দুর্ঘটনায় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, রোপ রেসকিউ (দড়ির সাহায্যে উদ্ধার), এবং ফায়ার ফাইটিংয়ের নানা কৌশল প্রদর্শনীর মাধ্যমে যুব আপদা মিত্রদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রজেক্ট অফিসার শামিম আহমেদ লস্কর, এনডিআরএফ এর ইন্সপেক্টর অজয় কুমার যাদব এবং সোনাই ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ওয়াই বি এম সিংহা। তাঁরা প্রশিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় দুর্যোগ মোকাবিলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, আপদা মিত্ররা হলেন সমাজের প্রথম রক্ষাকবচ। দুর্যোগের প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই সময়ে প্রশিক্ষিত যুব সমাজই পারে বহু মূল্যবান প্রাণ বাঁচাতে।

সমগ্র সূচনা পর্বটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সোনাই সার্কলের ফিল্ড অফিসার বিপ্রজিৎ পাল চৌধুরী। সপ্তাহব্যাপী এই নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণ শেষে এই তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা আগামী দিনে জেলার যে কোনো দুর্যোগে প্রশাসনের অন্যতম শক্ত স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Posts

বিজেপির বোর্ড, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট কোথায়?

১০০ ভোটারের মধ্যে বিজেপির পাশে প্রায় ৩৫ জন, বিরোধী ভোট ছড়িয়েই কি গেরুয়া বোর্ডের রাস্তা পরিষ্কার? রাজু দাস, বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ১১ অক্টোবরঃ শিলচর শহরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিজেপিকে ভোট দেননি।…

অহংকার, টিকিট-বাণিজ্য আর স্বজনপোষণের মাশুল!

নিজ গড়ে সজল আচার্যের বধ, শিলচরে কংগ্রেসের ‘রাজনৈতিক সলিল সমাধি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১০ অক্টোবরঃ কাছাড় জেলা কংগ্রেস সভাপতি সজল আচার্য এখন মুখ লুকাবেন কোথায়? নাকি আগের মতোই আবার বুক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *