আন্তর্জাতিক বার্মিজ সুপারি পাচার চক্রের তদন্তে ইডির জোরদার অভিযান, কাছাড়জুড়ে একযোগে একাধিক স্থানে তল্লাশি

তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে না এলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত বলে অভিযোগ থাকা বার্মিজ সুপারি পাচার চক্র এর সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে—এমন সন্দেহের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন দলে বিভক্ত ইডি আধিকারিকরা জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান শুরু করেন।

অভিযান চালানো স্থানগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শিলচর হাসপাতাল রোড এলাকার সুপারি ব্যবসায়ী দীপঙ্কর দেব-এর বাসভবন এবং শিলচরের মধুরবন্ধ এলাকার জাকির হোসেন তালুকদার-এর বাড়ি। এছাড়াও কাটিগড়া, কালাইন, ভাগা, ধলাইসহ জেলার আরও একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালানোর খবর মিলেছে। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার উপর কড়া নজরদারি রাখা হয় এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাইরের লোকজনের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রের খবর, ইডির আধিকারিকরা বিভিন্ন ব্যবসায়িক নথি, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, সম্পত্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। তদন্তের স্বার্থে কিছু নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানা গেলেও, ঠিক কী উদ্ধার হয়েছে সে বিষয়ে ইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই মামলার তদন্তে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় শিলচরের ব্যবসায়ী আবুব মজুমদার এর বাসভবনেও অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানের পর ইডির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, আন্তর্জাতিক বার্মিজ সুপারি পাচার চক্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন এবং এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করেছেন।

তবে ওই অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী, বুধবারের এই অভিযান সেই চলমান তদন্তেরই ধারাবাহিক অংশ। তদন্তকারীরা এখন আর্থিক লেনদেনের উৎস, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সম্ভাব্য যোগাযোগ, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক সম্পর্ক খতিয়ে দেখছেন। তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এলে আরও তল্লাশি বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

এদিকে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে ইডির অভিযানের ঘটনায় ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সুপারি পাচার চক্রের অভিযোগকে ঘিরে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং ভবিষ্যতে আর কারও বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে। তবে ইডির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযানের বিষয়ে কোনও বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তদন্তের প্রকৃত অগ্রগতি, উদ্ধার হওয়া নথির গুরুত্ব এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

Related Posts

তুঘলক ক্রিসেন্টের বাংলোয় সেই রাতের পোড়া নোটের রহস্য, তদন্তে কাঠগড়ায় বিচারপতি বর্মা

অগ্নিকাণ্ডের পর মিলেছিল বিপুল নগদ, পরে রহস্যজনকভাবে উধাও; তিন অভিযোগই সত্য বলে জানাল তদন্ত কমিটি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ১৩ আগষ্টঃ বাইরে থেকে দেখলে দিল্লির তুঘলক ক্রিসেন্টের ৩০ নম্বর সরকারি…

সাবান-বিস্কুটেও মূল্যবৃদ্ধির আঁচ, সেপ্টেম্বরে আরও চাপে মধ্যবিত্তের সংসার

কাঁচামাল ও উৎপাদন খরচের অজুহাতে দাম বাড়ানোর প্রস্তুতিতে একাধিক এফএমসিজি সংস্থা বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ১৩ আগষ্টঃ রান্নাঘরের গ্যাস থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিতে এমনিতেই চাপে সাধারণ মানুষের সংসার। এর…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *