বনবিভাগ ও চা-বাগানের জমি জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ আগষ্টঃ সরকারি জমি দবরদখল করে বসবাসকরা অবৈধ বাংলাদেশীরাই হত্যা করেছে বাজাছিড়ার বিজেপি বুথ সভাপতি বিকাশ ধরকে বলে অভিযোগ করেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ,পার্বত্য অঞ্চল ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।
বলেন বিষয়টি তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে অবগত করেছেন এবং ঘটনায় ছয়জনকে ইতিমধ্যে পুলিশ আটক করেছে।তবে বনবিভাগের মাটি দখল করে অবৈধভাবে বসবাস করা বাংলাদেশীরা একের পর এক ঘটনা সংঘটিত করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।

বিজেপি বুথ সভাপতি বিকাশ ধর গত বুধবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁকে খুঁজে বের করতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হয়। বৃহস্পতিবার পাথারকান্দির বিধায়ক তথা রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য অঞ্চল ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বিকাশ ধরের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মন্ত্রীর কাছে নিখোঁজ বিকাশ ধরকে দ্রুত খুঁজে বের করার আবেদন জানানো হয়।
এরপরই মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল শ্রীভূমির সিনিয়র পুলিশ সুপার লীনা দোলে-সহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশ ধরকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।পরবর্তীতে সিনিয়র পুলিশ সুপার লীনা দোলের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ তল্লাশির পর শুক্রবার যোগীছড়ার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বিকাশ ধরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শণিবার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শেষে আবর্তভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন বুথ সভাপতি বিকাশ ধরকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী প্রতিমুহূর্তে খোঁজ রাখছেন।শ্রীভূমির সিনিয়র পুলিশ সুপার লীনা দোলের নেতৃত্বে পুলিশি অভিযানে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তবে সরকারি জমি দবরদখল করে বসবাস করা অবৈধ বাংলাদেশীরাই বিকাশ ধরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।
বলেন ১৯৮৩-৮৪ সালে এধরনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।মূলত বনবিভাগের মাটি দখল করে বসবাস করা অবৈধ বাংলাদেশীরাই এসব কান্ড করছে।শুধু বনবিভাগ নয়, চা বাগানের এলাকা দখল করা হচ্ছে।কোনো নিয়মনীতি না মেনে জলাশয়গুলো দখল করে অবৈধ বাংলাদেশীরা ফিসারি তৈরী করে নেয় বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী।তবে বিগতদিনের ন্যায় আগামীতেও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি জমি জবরদখলমুক্ত করতে অবৈধ বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানান মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।সাধারণের মধ্যে ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ এবং তাকে কেন্দ্র করে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছিল তাও এখন শান্ত হয়েছে।তবে কিছু মানুষ সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপপ্রয়াস করছেন।তাদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।
প্রয়াত বিকাশ ধরের পরিবারের প্রতি সমব্যদনা জ্ঞাপন করে মন্ত্রী বলে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে দশ লক্ষ টাকা প্রদানের কথা ঘোষনা করেছেন।তিনি নিজেও পাঁচলক্ষ টাকা প্রদান করবেন।তবে বৃহত্তর বাজারিছড়া এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাজ্যের রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ, পার্বত্য অঞ্চল ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।





