শ্রীভূমিতে উদযাপিত ৮০তম স্বাধীনতা দিবস

জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী ও শহীদ চমনলালের স্মৃতিশৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জেলাক্রীড়া সংস্থার মাঠে প্রবেশ করেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। জেলাআয়ুক্ত প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী, সিনিয়র পুলিশ সুপার লীনা দোলে, উওর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ (পান্না),দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনূর রশিদ চৌধুরী, জেলা বিজেপি সভাপতি সঞ্জীব বণিক,প্রাক্তন সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য, উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য, জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ সহ অন‍্যদের উপস্থিতি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জনস্বাস্থ‍্য কারিগরি বিভাগ, পার্বত‍্য অঞ্চল ও বরাক উপত‍্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।

প্রাসঙ্গিক বক্তব্য প্রথমেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শহীদ ক্ষুদিরাম,ঝাসির রাণী লক্ষ্মিবাই থেকে মঙ্গল পান্ডে সহ শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মন্ত্রী। এরপর কেন্দ্র ও রাজ‍্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখি প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন। শিক্ষা-স্বাস্থ‍্য-যোগাযোগ থেকে কৃষি,জনস্বাস্থ‍্য-পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন বিভাগে রাজ‍্য সরকারের গৃহীত প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।

শ্রীভূমি জেলাসদরে এনএইচআইডিসিএলের অধীনে রাস্তার কাজ শীঘ্র শুরু করা হবে। শহরের পেট্রোলপাম্প থেকে সুতারকান্দি পর্যন্ত রাস্তাকে সুন্দর ভাবে নির্মাণ করা হবে।শহরের রাস্তার বেহাল অবস্থা বিবেচনা করে শহর থেকে সাড়ে ১২ কিমি রাস্তায় একটি ওয়ান টাইম ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই কাজের মধ্যে শহর এলাকায় ৪ কিমি এবং ফকিরাবাজার এলাকায় ১ কিমি সিমেন্ট কংক্রিট দিয়ে রিভিউ পেকমেন্ট নির্মাণ করা হবে। শহরের রাস্তার উভয় দিকে প্রায় ৪ কিমি ড্রেনেজ বিটুমিনাম কংক্রিট স্তর দিয়ে শক্তিশালি করা হবে। অনুরূপভাবে মালুয়া থেকে শ্রীভুমি বাইপাস পর্যন্ত  ৩৭ নং জাতীয় সড়কের কাজের জন্যও ওয়ান টাইম ইমপ্রুভমেন্ট কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।

অন‍্যদিকে শ্রীভূমি শহরবাসীকে জমা জলের সমস্যা থেকে রেহাই দিতে টাউন এন্ড কান্ট্রি প্লেনিং বিভাগ থেকেও শুরু হয়েছে উদ্যোগ। প্রথমবারের মতো শ্রীভূমি মাস্টার প্ল্যান এলাকায় ২৭ টি পুর ওয়ার্ড এবং ৫৫ টি গ্রাম জুড়ে জিআইএস ভিত্তিক মাস্টার প্ল্যান তৈরির জন্য গত ৩১ জুলাই থেকে সার্ভে শুরু হয়েছে। এর ফলে একটি বিস্তারিত ডাটাবেজ তৈরি করা সম্ভব হবে। ফলস্বরূপ জমাজল প্রতিরোধী নবায়নের পরিকল্পনা সহ দীর্ঘমেয়াদি নগর উন্নয়নের পথ প্রশস্থ হবে বলে জানান মন্ত্রী।

বরাক উপত‍্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন মুখ‍্যমন্ত্রী ড.হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বরাক উপত্যকাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেই বরাক উন্নয়ন বিভাগ নামে পৃথক একটি বিভাগ খুলে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বরাক উপত্যকার মানুষের সুবিধার জন্য শ্রীকোনায় অসম সচিবালয়, শিলচর নামে পৃথক একটি সচিবালয় গড়ে দিয়েছেন। এই সচিবালয়ে মোট ৩৫ টি সরকারি বিভাগের কর্মসংস্কৃতি খুব শীঘ্রই জোরকদমে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী বরাক উপত্যকার তিন জেলার সম বিকাশ চাইছেন। এবারের রাজ্য সরকারের বাজেটেও এর প্রতিফলন ঘটেছে।

এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাশয় শনবিলের উন্নয়নে ১০০ কোটি, পাথারকান্দিতে কৃষি মহা বিদ্যালয়, এইমস এর শাখা স্থাপন সহ একাধিক সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর বরাক প্রীতির জ্বলন্ত নিদর্শন। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে শিলচর থেকে মেঘালয়ের বড়পানি হয়ে গুয়াহাটি অব্দি এক্সপ্রেস হাইওয়ে নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ২২ হাজার কোটি টাকার মঞ্জুরি দিয়েছে। শিলচর সৌরাষ্ট্র মহাসড়কের কাজও প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে গেছে। বরাক উপত্যকার মানুষের সুবিধার জন্য ডলুতে গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

নিজের বিভাগের কাজকর্ম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি  বিভাগ থেকে শ্রীভূমি  জেলায় জল জীবন মিশনের অধীনে এই পর্যন্ত ২,৯৭,৮৩২ টি লক্ষমাত্রার বিপরীতে ২,৬৪,৮৬৭ পরিবারকে পানীয় জলের গৃহ সংযোগ স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে এবং ৫৭৩ টি জল জীবন প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এছারা ১,৮৪৫ টি স্কুল এবং ১,২৪৪ টি অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বচ্ছ ভারত মিশন গ্রামীণের অধীনে জেলার ৯০৮ টি গ্রামকে  শৌচমুক্ত গ্রাম হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।অন‍্যদিকে শ্রীভূমিতে নতুন টাউন জল সরবরাহ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে এর জন্য ৮১.১৮ কোটি টাকা ইতিমধ্যে মঞ্জুর করা হয়েছে, পাশাপাশি বদরপুরে নতুন টাউন জল সরবরাহ প্রকল্পের কাজের জন্য ৪৯.৫৯ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে,ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে এবং ডোর টু ডোর সার্ভে চলছে।

তাছাড়া জল জীবন মিশন নামক একটি ফ্লেগশিপ প্রকল্প মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৯ সালের আগষ্ট করেছিলেন। এর লক্ষ হল প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারে পর্যাপ্ত পরিমানে অর্থাৎ নুনতম ৫৫ লিটার করে প্রতি ব্যক্তি প্রতি দিন বিশুদ্ধ জল পাবেন। আমাদের রাজ্য এই প্রকল্প শুরু করার সময় খুব কম এফএইচটিসি কভারেজ নিয়ে শুরু করেছিল। তখন মোট গ্রামীণ পরিবারের মাত্র ১.৫৪ শতাংশ পরিবারে এফএইচটিসি ছিল।

বর্তমানে সেই অগ্রগতি ৮১.৮৬ শতাংস অর্থাৎ ৫৯ লক্ষ ১৩ হাজার ৮২৫ টি পরিবার। জল জীবন মিশনের অধীনে প্রায় ২৭ হাজার ৫৩০ টি পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম অনুমোদিত হয়েছে। এরমধ্যে ১৯ হাজার ৬৮৪ টি স্কিম সম্পন্ন হয়েছে এবং হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের ৯৫.৪০ শতাংশ গ্রামীণ স্কুল এবং ৯০.৫৯ অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে চলমান জল সংযোগ রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। এদিন পুলিশ,এনসিসি সহ বিভিন্ন বিভাগের অভিভাবন গ্রহণ করেন মন্ত্রী। সবশেষে বিভিন্ন বিভাগে কৃতিত্ব অর্জনকারীদের পুরস্কৃত করা হয়।

Related Posts

কাছাড়ের সমবায় সমিতিগুলো দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত!

জিরো টলারেন্স নীতির ফরমানকে কার্যত আই ডোন্ট কেয়ার! নিজেদের পকেট ভারী করেছে শক্তিশালী দালাল চক্র বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ আগষ্টঃ আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, দুর্নীতির…

কালাইনে উন্নয়নের অজুহাতে সুপরিকল্পিত প্রাকৃতিক সম্পদের ধ্বংসযজ্ঞ?

নিয়মনীতি শিকেয়! অবাধে পাথর-বালি ও পাহাড় উজাড়, সিন্ডিকেট চক্রের রমরমা বাণিজ্য, কুম্ভ নিদ্রায় বনবিভাগ বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ আগষ্টঃ উন্নয়ন নাকি সুপরিকল্পিত পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞ? কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভা সমষ্টির কালাইন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *