বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৫ মেঃ অসমের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুচর্চিত রিণিকি ভূঞা শর্মা সংক্রান্ত মামলায় কংগ্রেস নেতা পবন খেড়াকে ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার করল অসম পুলিশ। নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের সভাপতি পবন খেড়া বৃহস্পতিবার টানা দ্বিতীয় দিনের জন্য গুয়াহাটি অপরাধ শাখার কার্যালয়ে হাজির হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন।
সূত্রের খবর, এদিন প্রায় আট ঘণ্টা ধরে তাঁকে নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তদন্তকারীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সহযোগিতামূলক মনোভাবই দেখিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অসম প্রদেশ কংগ্রেসের মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে জারি করা এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও পবন খেড়া তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং আইন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
টানা দ্বিতীয় দিন গুৱাহাটী অপরাধ শাখায় হাজির কংগ্রেস নেতা, ২৫ মে আবার তলব
দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অপরাধ শাখার দপ্তর থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেন পবন খেড়া। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তদন্ত প্রক্রিয়াকে তিনি সম্মান করেন এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভবিষ্যতেও তদন্তে সহযোগিতা করে যাবেন। তিনি বলেন, তাঁরা আমাকে প্রশ্ন করেন, আমি উত্তর দিই। এভাবেই প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ২৫ মে আবার আমাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
আমি অবশ্যই আসব এবং সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব, যেমনটা প্রত্যেক দায়িত্বশীল নাগরিকের করা উচিত। তবে মামলার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে তিনি স্পষ্টতই সতর্ক অবস্থান নেন। খেড়া বলেন, যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন, তাই সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তদন্তকারী আধিকারিকদের কাছে সমস্ত তথ্য ও উত্তর যথাযথভাবে প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৫ এপ্রিল অসম বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিণিকি ভূঞা শর্মাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন পবন খেড়া। তিনি দাবি করেছিলেন, রিণিকি ভূঞা শর্মার নাকি একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে এবং বিদেশে তাঁর সম্পত্তিও আছে। কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।
যদিও অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করে রিণিকি ভূঞা শর্মা সরাসরি পবন খেড়ার বিরুদ্ধে গুয়াহাটি অপরাধ শাখায় এফআইআর দায়ের করেন। এরপরই অসম পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে। মামলা রুজু হওয়ার পর পবন খেড়াকে খুঁজতে অসম পুলিশের একটি বিশেষ দল দিল্লি পর্যন্ত অভিযান চালায় বলে জানা যায়। তবে সেই সময় তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি পরে আদালতে গড়ায় এবং আইনি লড়াই ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করে।
দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করব, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মন্তব্য পবন খেড়ার
ঘটনার পর পবন খেড়া তেলেঙ্গানা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন এবং আদালত তাঁকে ৭ দিনের শর্তসাপেক্ষ অগ্রিম জামিন মঞ্জুর করে। কিন্তু সেই জামিন আদেশে আইনি ত্রুটি রয়েছে বলে দাবি করে অসম সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট তেলেঙ্গানা হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি করে। পরে পবন খেড়া সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা আবেদন জানিয়ে স্থগিতাদেশ চ্যালেঞ্জ করলেও শীর্ষ আদালত তাঁকে অসমের উপযুক্ত আদালতে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দেয়।
সেই নির্দেশ মেনে তিনি গুয়াহাটি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও সেখান থেকে স্বস্তি পাননি। গুয়াহাটি হাই কোর্ট তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। অবশেষে পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে গেলে পবন খেড়া স্বস্তি পান এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাঁকে জামিন মঞ্জুর করে। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্তও বহাল রাখা হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই অসমের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপি শিবিরের দাবি, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে চাপে রাখতেই তদন্ত সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে পবন খেড়াকে ঘিরে এই মামলা এখন শুধু আইনি পরিসরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা অসমের রাজনৈতিক আবহেও নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। আগামী ২৫ মে পুনরায় অপরাধ শাখায় তাঁর হাজিরাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।






