বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৮ আগষ্টঃ ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের মাহেন্দ্রক্ষণে বরাক উপত্যকায় উদযাপিত হলো এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ। প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে শিলচর পুরনিগমের কর্মচারীদের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হলো ২৫তম বার্ষিক স্বেচ্ছা রক্তদান শিবির।
পুরনিগম কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই রক্তদান শিবিরের সহ-আয়োজক হিসেবে হাত মিলিয়েছিল বরাক উপত্যকা ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের কাছাড় জেলা কমিটি এবং লায়ন্স ও লিও ক্লাব অব শিলচর গ্রেটার । মুমূর্ষু রোগীর প্রাণরক্ষা এবং তরুণ সমাজের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতার জোয়ার তুলে দিতেই এই ধারাবাহিক উদ্যোগ বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিন সকাল ঠিক ১১টায় শিলচর পুরনিগমের কমিশনার অঙ্কুর দাসের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘটে। উদ্বোধনী সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বরাক উপত্যকা ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আশু পাল, কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি দেবব্রত পাল, জেলা সাধারণ সম্পাদক সব্যসাচী রুদ্র গুপ্ত এবং মহিলা শাখার সভানেত্রী গৌরী দেবনাথ। শিবিরের আহ্বায়ক তথা পুরনিগমের কর্মচারী অমলকুমার দাস জানান, স্বাধীনতা দিবসের উৎসবকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রক্তদানের মতো পুণ্যকর্মের মাধ্যমে সমাজসেবায় উৎসর্গ করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
শিবিরে পরম উৎসাহের সাথে মোট ২৫ জন রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন, যার মধ্যে ৪ জন ছিলেন মহিলা রক্তদাতা। বহু নবীন যুবক-যুবতী এই দিন প্রথমবারের মতো রক্তদান করে এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হন। অন্যদিকে, রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কাঙ্ক্ষিত মানের নিচে থাকায় বেশ কয়েকজন ইচ্ছুক রক্তদাতা রক্তদানে অসমর্থ হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এদিনের রক্তদান শিবিরের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন প্রবীণ ও নিয়মিত রক্তদাতা সুরেন্দ্র জৈন, যিনি এদিন নিজের জীবনের ১১৩তম রক্তদান সম্পন্ন করে তরুণ প্রজন্মের সামনে এক অনুকরণীয় নজির উপস্থাপন করেন। ব্লাড ডোনার্স ফোরামের পক্ষ থেকে সমস্ত রক্তদাতাকে মেডেল ও সংশাপত্র প্রদান করা হয় এবং কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল ব্লাড ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে পৃথক মানপত্র তুলে দেওয়া হয়।
দিনভর এই রক্তদান শিবিরের কার্যক্রম চলাকালীন রক্তের মতো অমূল্য সম্পদ দান করা উৎসাহীদের খোঁজখবর নিতে ও অভিনন্দন জানাতে উপস্থিত হন বরাক উপত্যকার একাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব, বিশিষ্ট আইনজীবী দুলাল মিত্র, বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাছাড় জেলা সম্পাদক উত্তম সাহা, রূপম সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নিখিল পাল এবং সাময়িক প্রসঙ্গ পত্রিকার কর্ণধার তৈমুর রাজা চৌধুরীসহ একাধিক গুণীজন। সমগ্র অনুষ্ঠানটির দক্ষ সমন্বয় ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক অমলকুমার দাস এবং কাছাড় জেলা সাধারণ সম্পাদক সব্যসাচী রুদ্রগুপ্ত।
রক্তদাতাদের মনোবল বৃদ্ধি করতে ফোরাম ও লায়ন্স ক্লাবের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সম্পাদক প্রবাল কান্তি বণিক, কেন্দ্রীয় প্রচার সচিব সুজয় নাথ, জেলা কার্যকরী সভাপতি নবেন্দু নাথ, সহ-সভাপতি রঞ্জিতকুমার মিশ্র, যুগ্ম সম্পাদক সৌম্যজ্যোতি ভট্টাচার্য, মহিলা শাখার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদিকা বুবু চৌধুরী ও কার্যকরী সভানেত্রী কিঙ্কিণী দে দত্ত।
লায়ন্স ক্লাব অব শিলচর গ্রেটারের পক্ষে সভাপতি ঝুমুর দত্ত, সম্পাদক পিতম গোস্বামী এবং লিও ক্লাব অব শিলচর গ্রেটারের সভানেত্রী পূরবী দাস, সম্পাদিকা জিতিকা দাস, প্রাক্তন সভানেত্রী নেহা চক্রবর্তী ও প্রাক্তন সভাপতি শুভ চক্রবর্তী পূর্ণ সক্রিয়তার সাথে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল ব্লাড ব্যাঙ্কের ইনচার্জ ড. সবনম বাহার বড়ভূঁইয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও চিকিৎসা নীতি মেনে সংগৃহীত রক্ত সংরক্ষিত হয়। তাঁকে রক্ত সংগ্রহের কাজে সার্বিক সহায়তা করেন কাউন্সিলর শান্ত সিংহ, টেকনিসিয়ান সাদিক আহমেদ এবং জিএনএম আজিম উদ্দিন।
বরাক উপত্যকায় রক্তের সংকট দূরীকরণ এবং জনকল্যাণমূলক কাজের ধারায় পুরনিগমের এই ২৫তম রুপোলি জয়ন্তী রক্তদান শিবির এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল বলে সর্বস্তরে প্রশংসিত হচ্ছে। ফোরামের কেন্দ্রীয় প্রচার সচিব সুজয় নাথ এক প্রেসবার্তার মাধ্যমে এই সাফল্য ও শুভানুধ্যায়ীদের কৃতজ্ঞতার কথা জ্ঞাপন করেছেন।






