বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ আগষ্টঃ স্বাধীনতা দিবসের ঘোর কাটতে না কাটতেই সীমান্তবর্তী শ্রীভূমি জেলায় নেশা কারবারিদের এক বড় সড় চক্রান্ত ভেস্তে দিল পাথারকান্দি থানার পুলিশ। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক পরদিনই অটোরিকশার ভেতরের বিশেষ গোপন চেম্বারে লুকিয়ে ত্রিপুরায় নিষিদ্ধ কফ সিরাপ পাচারের এক দুঃসাহসিক ও ‘ফিল্মি’ চেষ্টা নস্যাৎ করে দিল পুলিশ বাহিনী। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে প্রায় ৮ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের ৭১১ বোতল অবৈধ কফ সিরাপ। এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক আন্তঃরাজ্য পাচারকারী অটো চালককে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রীভূমি থেকে সীমান্তবর্তী পার্শ্ববর্তী ত্রিপুরা রাজ্যে অটোরিকশার মাধ্যমে নিষিদ্ধ কফ সিরাপের একটি বড় চালান পাচার করা হচ্ছে, এমন এক সুনির্দিষ্ট ও গোপন তথ্য এসে পৌঁছায় পাথারকান্দি থানা কর্তৃপক্ষের কাছে। খবর পাওয়ামাত্রই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে পাথারকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেউরির নেতৃত্বে এসআই হীরক জ্যোতি দাস ও সহকর্মীদের নিয়ে একটি বিশেষ পুলিশ টিম গঠিত হয়। রবিবার ভোর থেকেই পাথারকান্দি এলাকার অত্যন্ত সংবেদনশীল ময়না বাইপাস অঞ্চলে ওত পেতে বসে থাকে পুলিশের চতুর দলটি। শ্রীভূমি থেকে আসা প্রতিটি সন্দেহভাজন গাড়ি ও বাইকে নজরদারি চালানো শুরু হয়।
অভিযান চলাকালীন শ্রীভূমির দিক থেকে প্রচণ্ড গতিতে ত্রিপুরার দিকে ধেয়ে আসা TR 02 B 4000 নম্বরের একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে সন্দেহবশত থামার সংকেত দেয় পুলিশ। প্রথমে স্বাভাবিক যাত্রীবাহী অটো বলে মনে হলেও পুলিশের অভিজ্ঞ নজরকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয়নি। অটোর ভেতর প্রাথমিক তল্লাশি চালিয়ে চালক ছাড়া অন্য কোনো যাত্রী বা সামগ্রী মেলেনি।
কিন্তু পুলিশের খটকা না কাটায় পুরো অটোরিকশাটি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করতেই উন্মোচিত হয় পাচারচক্রের আসল কৌশল! দেখা যায়, অটোরিকশার পেছনের ও নিচের অংশে অত্যন্ত চতুরতার সাথে ঝালাই করে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ গোপন ‘সিক্রেট চেম্বার’। সেই গোপন প্রকোষ্ঠের ভেতর থেকে একে একে বেরিয়ে আসে কয়েকটি প্লাস্টিকের বস্তা। বস্তাগুলো খুলতেই উদ্ধার হয় মোট ৭১১ বোতল নিষিদ্ধ কোডিনযুক্ত কফ সিরাপ।
অঙ্ক কষে এই চালান পাচারের দায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে অটোরিকশা চালক দুরুধ মিয়াকে। ধৃত চালক উত্তর ত্রিপুরা জেলার সোনাপুর গ্রামের অধিবাসী রহিম আলির পুত্র। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা গেছে, স্বাধীনতা দিবসের সুযোগ নিয়ে নজরদারি এড়িয়ে এই বিশাল কফ সিরাপের চালানটি সীমান্ত পার করে ত্রিপুরা রাজ্যে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য। বিশাল অংকের এই নেশার সামগ্রী বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি পাচারে ব্যবহৃত অটোরিকশাটিকেও তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সমগ্র পাথারকান্দি ও সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
পাথারকান্দি থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেউরি জানিয়েছেন, ধৃত চালক স্রেফ এক সাধারণ বাহক বা ক্যারিয়ার। কিন্তু এই ৮ লাখ টাকার নিষিদ্ধ তরল বিষের নেপথ্যে রয়েছে এক শক্তিশালী ও সুসংগঠিত নেশা মাফিয়া চক্র। শ্রীভূমির কোথা থেকে এই বিপুল পরিমাণ ড্রাগস সরবরাহ করা হয়েছিল এবং ত্রিপুরায় কার হাতে এই চালানটি পৌঁছানোর কথা ছিল, তার পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন করতে ধৃত দুরুধ মিয়াকে লাগাতার জেরা চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানে সীমান্তবর্তী নেশাসক্ত কারবারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।






