নিযুত মইনা, নিযুত বাবু ও নতুন রেশন সুবিধার বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ আগষ্টঃ অসম সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অরুণোদয়’এর আওতায় আজ, ১ আগস্ট থেকে রাজ্যের প্রায় ৩৭ লক্ষ ১০ হাজার মহিলা উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাসিক আর্থিক সহায়তার অর্থ পাঠানো শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘোষণা করেছেন, প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রতিটি যোগ্য মহিলা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি মাসে ১,২৫০ টাকা করে পাবেন। এই অর্থ সরাসরি আধার-সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
তবে এবার বন্যাদুর্গত পরিবারের জন্য রয়েছে বিশেষ স্বস্তির খবর। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর, চরাইদেউ, যোরহাট ও গোলাঘাট জেলার অরুণোদয় প্রকল্পের উপভোক্তাদের জন্য সরকার অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে। এই চার জেলার যোগ্য মহিলারা চলতি মাসে স্বাভাবিক ১,২৫০ টাকার পরিবর্তে ২,৫০০ টাকা করে পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আর্থিক সংকট কিছুটা লাঘব করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উপভোক্তাদের নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা এবং নির্ধারিত সময়ে অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে অরুণোদয় সহায়কদের সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো হবে। যাতে কোনও যোগ্য উপভোক্তা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগস্ট মাসকে রাজ্যের সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য একটি ‘বিশেষ মাস’ হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অরুণোদয়ের পাশাপাশি আরও একাধিক জনমুখী প্রকল্প চালু হতে চলেছে। উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দিতে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ‘নিযুত মইনা’ ও ‘নিযুত বাবু’ প্রকল্পের আবেদনপত্র বিতরণ শুরু হবে। সরকারের আশা, এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী উপকৃত হবেন। আগামী অক্টোবর মাসে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা হিসেবে বিতরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও রাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী ১০ আগস্ট থেকে পুনরায় রেশন বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় ৭০ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তা রেশন কার্ডের মাধ্যমে মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে বিনামূল্যে খাদ্যশস্যের পাশাপাশি ১ কিলোগ্রাম মসুর ডাল এবং ১ কিলোগ্রাম চিনি পাবেন। সরকারের মতে, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমাতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
জেলা উপায়ুক্তদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভিডিও কনফারেন্সে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, প্রতিটি যোগ্য ব্যক্তি যেন কোনও ধরনের হয়রানি, বিলম্ব বা প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দ্রুত পরিষেবা প্রদানের উপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে চালু হওয়া অরুণোদয় প্রকল্প বর্তমানে অসমের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলির জন্য অন্যতম বৃহত্তম সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। লক্ষ লক্ষ পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের নতুন ঘোষণাগুলির ফলে মহিলা, শিক্ষার্থী এবং নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য আগামী দিনগুলিতে আরও বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।





