ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলির সংস্কারেও বিশেষ আর্থিক সহায়তা
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ আগষ্টঃ বন্যার ভয়াবহ ধাক্কায় বিপর্যস্ত আপার আসামের চার জেলার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে বড় উদ্যোগ নিল অসম সরকার। শিবসাগর, চরাইদেউ, গোলাঘাট এবং যোরহাট জেলার বন্যাকবলিত ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় যাতে কোনও প্রতিবন্ধকতা না আসে, সেই লক্ষ্যেই স্কুল ইউনিফর্ম কেনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৭ কোটি ৬২ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই বিশেষ আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সমগ্র শিক্ষা, অসম-এর নামে ৭,৬২,৫৪,০০০ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে, যাতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত নতুন স্কুল ইউনিফর্মের ব্যবস্থা করা যায়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অনুমোদিত অর্থ ইতোমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সমগ্র শিক্ষা, অসম-এর সঞ্চয়ী হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কখনও কোনও বাধা আসতে দেওয়া যাবে না। তাঁর এই মন্তব্যকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দ্রুত স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবেই দেখছেন শিক্ষামহল।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বরাদ্দকৃত এই অর্থের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর, চরাইদেউ, গোলাঘাট ও যোরহাট জেলার প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্কুল ইউনিফর্ম কেনা হবে। বন্যায় বহু পরিবারের আর্থিক ক্ষতির কথা মাথায় রেখেই সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যায় আপার আসামের বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন প্লাবিত ছিল। বহু বিদ্যালয় জলমগ্ন হয়ে পড়ে, শিক্ষাসামগ্রী নষ্ট হয় এবং হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী তাদের বই, খাতা ও স্কুল ইউনিফর্ম হারায়। এখনও বহু এলাকায় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে না আসায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
যদিও রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় ইতোমধ্যেই নতুন শিক্ষাবর্ষের পঠন-পাঠন স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে, তবে শিবসাগর, চরাইদেউ, গোলাঘাট এবং যোরহাটের বহু বিদ্যালয় এখনও বন্যার ক্ষত বহন করছে। কোথাও বিদ্যালয় ভবনে জমে রয়েছে কাদা, কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ-ডেস্ক এবং শিক্ষার অন্যান্য পরিকাঠামো। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দ্রুত সচল করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।
এর আগে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছিলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিবসাগর জেলায় প্রায় ৫৫০টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি চরাইদেউ জেলার বহু বিদ্যালয় এখনও কাদায় ঢেকে রয়েছে। আগামী ৫ থেকে ৬ আগস্টের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বিদ্যালয়কে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য আগামী ৯ আগস্ট থেকে বন্যাকবলিত এলাকার বিদ্যালয়গুলিতে পুনরায় পঠন-পাঠন শুরু করা। এজন্য শিক্ষা বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে দ্রুত সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, দুর্যোগের পর শিশুদের দ্রুত বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে তার প্রভাব শুধু পড়াশোনায় নয়, মানসিক বিকাশের উপরও পড়ে।
সেই দিক থেকে সরকারের এই আর্থিক সহায়তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনেকের পক্ষেই নতুন ইউনিফর্ম কেনা সম্ভব নয়। তাই সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বহু পড়ুয়া নতুন ইউনিফর্ম পরে আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলির দ্রুত সংস্কার সম্পন্ন হলে আপার আসামের চার জেলায় শিক্ষা কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বলে প্রশাসনের আশা।





