অল্পের জন্য রক্ষা বহু প্রাণ, পাহাড় ধসে আতঙ্কে যাত্রী ও চালকরা, রাস্তার দুই প্রান্তে আটকে আছে শতাধিক যানবাহন
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ২৪ মেঃ টানা বর্ষণের জেরে ফের বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল বরাক উপত্যকা ও পাহাড়ি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। শনিবার সকাল প্রায় সাড়ে এগারোটা নাগাদ শিলচর–হাফলং সৌরাষ্ট্র সড়কের দূরবীন টিলা এলাকায় আকস্মিকভাবে ভয়াবহ ভূমিস্খলনের ঘটনা ঘটায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকাজুড়ে। বিশাল আকারের পাথর, মাটি ও গাছপালা ধসে সরাসরি সড়কের উপর এসে পড়ায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সকাল থেকেই ওই অঞ্চলে পাহাড়ের গা থেকে ছোট ছোট পাথর গড়িয়ে পড়ছিল। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের একাংশ ভেঙে নিচে নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ধুলোয় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। প্রাণভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী, পথচারী ও গাড়িচালকেরা। অনেকে তড়িঘড়ি গাড়ি ফেলে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।
সৌভাগ্যবশত, বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে ভূমিধসের সময় সড়কের উপর কয়েকটি ছোট ও বড় যানবাহন আটকে পড়ে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের তৎপরতা এবং চালকদের সতর্কতার ফলে সম্ভাব্য ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান বহু মানুষ। যদিও ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ভূমিস্খলনের জেরে শিলচর–হাফলং সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী গাড়ি ও ব্যক্তিগত যানবাহন রাস্তার দুই প্রান্তে আটকে পড়ে। বহু যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার ধারে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী নিয়ে যাতায়াতকারী পরিবার, দূরপাল্লার যাত্রী এবং ব্যবসায়ীরাও।
ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সড়ক নির্মাণ সংস্থার কর্মীরাও উদ্ধার ও পরিষ্কারকাজে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তবে পাহাড় থেকে এখনও মাঝেমধ্যে ছোট পাথর গড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই দূরবীন টিলা এলাকায় ভূমিস্খলনের আশঙ্কা তৈরি হয়। পাহাড় কাটার কাজ, অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এলাকা ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বহুবার স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ তাঁদের।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ওই সড়ক ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বলা হলেও অধিকাংশ যাত্রীই সমস্যায় পড়েছেন, কারণ শিলচর ও ডিমা হাসাও জেলার মধ্যে এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েকদিন আরও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।
ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। প্রশাসন দ্রুত সড়ক পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলেও পাহাড়ি অঞ্চলের অনিশ্চিত আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।





