বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ২৪ মেঃ বরাক উপত্যকাকে ধীরে ধীরে মাদকের করাল গ্রাসে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারচক্র। যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে কোটি টাকার কালোবাজারি বাণিজ্য গড়ে তুলতে মরিয়া এই চক্রের বিরুদ্ধে ফের বড়সড় সাফল্য পেল কাছাড় পুলিশ ও ৩৮ আসাম রাইফেলস। কাছাড় জেলার লক্ষীপুর থানার অধীনে বরাক নদীপথে পরিচালিত এক বিশেষ যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।
একইসঙ্গে আটক করা হয়েছে দুই কুখ্যাত মাদক পাচারকারীকে। শনিবার গোপন সূত্রে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বরাক নদীতে নজরদারি জোরদার করে কাছাড় পুলিশ এবং ৩৮ আসাম রাইফেলসের একটি বিশেষ দল। দীর্ঘ সময় ধরে নদীপথে তল্লাশি চালানোর পর সন্দেহভাজন একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাকে আটক করা হয়। এরপর নৌকাটিতে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর চিত্র। অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
অভিযানকারী দল নৌকা থেকে উদ্ধার করে প্রায় ১০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, যার মোট ওজন প্রায় ১.০৭২ কেজি। পাশাপাশি দুটি সাবানের কেসের ভিতরে বিশেষভাবে গোপন করে রাখা হয়েছিল প্রায় ২১ গ্রাম হেরোইন। এছাড়াও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তিনটি মোবাইল ফোন এবং পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই মাদক পাচারকারীর নাম জেম এল মালসন এবং কেনিয়োজের মার। তারা উভয়েই মণিপুরের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, বরাক নদীপথকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাদক পাচারের কাজ চালিয়ে আসছিল। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলির কল রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সাফল্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বরাক উপত্যকায় ভয়াবহ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ইয়াবা ও হেরোইনের কারবার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, ধ্বংস করে দেয় একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া যুবকদের টার্গেট করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদকচক্র। সহজে মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে যুব সমাজকে অপরাধের অন্ধকার জগতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, মাদক পাচারকারীরা সমাজের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধীদের মধ্যে অন্যতম। এরা শুধু আইন ভঙ্গ করছে না, বরং একটি প্রজন্মকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা নানা অসামাজিক কার্যকলাপ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করছে। তাই এই চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এদিকে, কাছাড় পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বরাক উপত্যকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ সম্পূর্ণভাবে বদ্ধপরিকর। সীমান্ত ও নদীপথে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। বর্তমানে আটক দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য পর্যায়ের আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। তাদের খোঁজে ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মাদকের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে। বরাক নদীপথে এই সফল অভিযানের ফলে ফের একবার স্পষ্ট হয়ে গেল, মাদকচক্র যতই কৌশল পাল্টাক না কেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি ও তৎপরতার জালে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়তেই হবে। সমাজকে বাঁচাতে এবং আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে মাদকবিরোধী এই লড়াই আরও জোরদার হওয়া এখন সময়ের দাবি।





