আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তার পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে জেলা আয়ুক্তের কার্য্যালয়ে স্মারকপত্র প্রদান
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ মেঃ কৃত্রিম বন্যা প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শহরের বেহাল রাস্তাঘাটের দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে শনিবার শ্রীভূমি জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত করে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) দলের করিমগঞ্জ জেলা কমিটি। দলের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ও আন্দোলনের আবহ তৈরি হয়। নেতাজি মূর্তির পাদদেশ থেকে একটি মিছিল বের হয়ে ছন্তর বাজার পয়েন্ট, ফায়ার ব্রিগেড রোড এবং শম্ভু সাগর রোড পরিক্রমা করে জেলা আয়ুক্ত কার্যালয়ের সামনে এসে সমবেত হয়। সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান তুলে সরব হন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভস্থলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) দলের করিমগঞ্জ জেলা সম্পাদক তথা রাজ্য কমিটির সদস্য অরুণাংশু ভট্টাচার্য বলেন, শুক্রবারের অবিরাম বৃষ্টিতে করিমগঞ্জ শহরের অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। শহরের অপরিকল্পিত ও বহু পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে এবং বহু পরিবার জলাবদ্ধতার কারণে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, এই জলাবদ্ধতার মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনা। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের অবহেলা এবং দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পরিকল্পনার অভাবেই এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে অবিলম্বে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে না তুললে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
শহরের প্রধান রাস্তাগুলির বেহাল অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে অরুণাংশু ভট্টাচার্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে করিমগঞ্জ শহরের মানুষ ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে উন্নত মানের রাস্তা ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা কোনো কঠিন কাজ নয়, অথচ সরকারের উদাসীনতা এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, করিমগঞ্জ শহর তথা জেলার মানুষের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই বলেই মনে হচ্ছে। অবিলম্বে শহরের প্রধান সড়কগুলির পূর্ণ পুনর্নির্মাণ, স্থায়ী ও গুণগতমানসম্পন্ন কাজের ব্যবস্থা এবং জল নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে উপযুক্ত সরকারি ক্ষতিপূরণ এবং কৃত্রিম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবিও জানান।
বিক্ষোভ শেষে জেলা আয়ুক্তের অনুপস্থিতিতে জেলা পরিষদের সিইও মুন গগৈ-এর হাতে পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকপত্র তুলে দেন আন্দোলনকারীরা। স্মারকপত্রে উল্লেখিত দাবিগুলির মধ্যে ছিল, শহরের প্রধান রাস্তাগুলির অবিলম্বে পূর্ণ পুনর্নির্মাণ, জোড়াতালির সংস্কার বন্ধ করে স্থায়ী ও মানসম্মত নির্মাণকাজ, কৃত্রিম বন্যা প্রতিরোধে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে এককালীন সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সহায়তা প্রদান।
স্মারকপত্র প্রদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য কমিটির সদস্য প্রজ্জ্বল দেব, জেলা কমিটির সদস্য তুষার দাস, পিকলু দাস, বিষ্ণু দত্ত পুরকায়স্থ, বিনয় হালাম, বিশিষ্ট সংগঠক বিজিত কুমার সিনহা এবং আব্দুর রহিম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা। পরবর্তীতে এই স্মারকপত্রের প্রতিলিপি এনএইচআইডিসিএল-এর জেনারেল ম্যানেজারের কাছেও জমা দেওয়া হবে।





