দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা, সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার আশ্বাস বিধায়কের
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ মেঃ হাইলাকান্দি শহরের প্রাণকেন্দ্র ১ নম্বর ওয়ার্ডের শিলচর রোড এলাকা যেন দীর্ঘদিন ধরেই জলজটের অভিশাপে জর্জরিত। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ে, নর্দমার নোংরা জল ঢুকে যায় বাড়িঘরে, দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। বহুবার অভিযোগ, স্মারকলিপি ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার পরও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছিল
এলাকাবাসীর মধ্যে। অবশেষে শনিবার সকালে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে সরজমিনে এলাকা পরিদর্শনে যান হাইলাকান্দি বিধানসভা সমষ্টির বিধায়ক ডা. মিলন দাস। তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শনকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক চাঞ্চল্য। বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাইলাকান্দি পৌরসভার চেয়ারম্যান মানব চক্রবর্তী, ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার পার্থ নাথ, বিজেপি কার্যকর্তা সঞ্জয় রায়, অমিত কুমার দেবসহ পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক আধিকারিক। এদিন তাঁরা শিলচর রোডের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জলাবদ্ধতার ভয়াবহ চিত্র প্রত্যক্ষ করেন।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, রাস্তার দুপাশের অধিকাংশ ড্রেন আবর্জনা, প্লাস্টিক ও পলিথিনে প্রায় ভরাট হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের অস্তিত্ব থাকলেও সেগুলির জল নিষ্কাশন ক্ষমতা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বর্ষণেই রাস্তার উপর হাঁটু সমান জল জমে সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য ভোগান্তি। শুধু পথচারীরাই নন, স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, বৃদ্ধ ও রোগীদেরও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়কের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, বর্ষাকাল এলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত জল দীর্ঘক্ষণ জমে থাকায় এলাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বহু বাড়ির ভিতরে নর্দমার জল ঢুকে গৃহস্থালির সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এলাকাবাসীর বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
এলাকাবাসীর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর বিধায়ক ডা. মিলন দাস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই পৌর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ এবং জল নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত এই ধরনের সমস্যা কোনোভাবেই অবহেলা করা যায় না। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
পরিদর্শনের পর লোকনির্মাণ বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক জানান, নির্মাণাধীন ধোয়ারবন্দ–হাইলাকান্দি অসম মালা প্রকল্পের আওতায় খুব শীঘ্রই শিলচর রোড প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হবে। শুধু রাস্তা সম্প্রসারণই নয়, আধুনিক নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ পরিসরে বৈজ্ঞানিক ও সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
বিধায়কের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বহু বছরের পুরনো জলাবদ্ধতার সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের পথ খুলবে। পাশাপাশি যান চলাচলও আরও স্বাভাবিক, নিরাপদ ও গতিশীল হয়ে উঠবে। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু হলে বর্ষাকালে জল জমার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। যদিও এলাকাবাসীর একাংশ প্রশাসনের আশ্বাসকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলেও তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত বাস্তব কাজ শুরু হওয়াটাই এখন সবচেয়ে জরুরি। বহুবার বিভিন্ন প্রকল্পের ঘোষণা হলেও বাস্তবে কাজের গতি অত্যন্ত ধীর ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
তাঁদের বক্তব্য, সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এদিকে বিধায়কের সরেজমিন পরিদর্শনের ঘটনায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে এলাকায়। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এবার শুধুমাত্র আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিনের জলজট সমস্যার অবসান ঘটাবে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয় এবং বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তি কবে পান শিলচর রোড এলাকার বাসিন্দারা।





