বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৫ মেঃ তুচ্ছ ব্যবসায়িক বিরোধ যে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে, তারই এক আতঙ্কজনক ছবি সামনে এলো শিলচরের বেরেঙ্গা এলাকায়। দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে বেরেঙ্গা তৃতীয় খন্ডের বাখরশাহ মোকাম পয়েন্ট এলাকায় ঘটে যায় এক চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতরভাবে আহত হন দুই ভাই। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আহত দুই যুবকের নাম রিপন উদ্দিন মজুমদার এবং সিপন উদ্দিন মজুমদার। বর্তমানে তাঁরা শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, রিপন উদ্দিনের মাথায় গভীর আঘাত লেগেছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মধুরবন্দ কিলগাউর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী জমুল হক মজুমদারের সঙ্গে কামাল উদ্দিন মজুমদারের দীর্ঘদিন ধরে দোকান বসানো নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, বহুবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও সেই বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ছিল। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে কামাল উদ্দিন দোকান খুলতে গেলে অভিযুক্ত পক্ষ বাধা দেয়। প্রথমে বচসা শুরু হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
মাথায় গভীর আঘাতে আশঙ্কাজনক রিপন উদ্দিন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবিতে সরব পরিবার ও স্থানীয়রা
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকাই উত্তেজিত হয়ে জমুল হক মজুমদার ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। হামলার শিকার হন কামাল উদ্দিনের ছেলে রিপন উদ্দিন মজুমদার। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতেই সিপন উদ্দিন মজুমদারের উপরও হামলা চালানো হয়। তাঁর হাতেও দায়ের কোপ লাগে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ভাইকে উদ্ধার করে দ্রুত শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। এদিকে এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সামান্য ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে কীভাবে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার মতো ঘটনা ঘটতে পারে?
সচেতন মহলের মতে, সমাজে সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ক্রমশ কমে যাওয়ার ফলেই এই ধরনের হিংসাত্মক প্রবণতা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমানে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিরোধ মেটাতে আইনি পথের বদলে শক্তি প্রদর্শন ও হিংসার আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এর ফলে শুধু আইনশৃঙ্খলাই বিঘ্নিত হচ্ছে না, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
ঘটনার পর আহতদের পরিবার শিলচর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি তুলেছেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং পূর্ব বিরোধের দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও সূত্রের খবর।





