বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৬ আগষ্টঃ শিলচরের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র তথা ঐতিহাসিক গান্ধী ভবনের বর্তমান দুরবস্থা এবং মাত্রাতিরিক্ত হল ভাড়ার প্রতিবাদে অবশেষে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে শহরের সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। সোমবার শহরের প্রাচীন এই অনুষ্ঠানস্থলের বেহাল রক্ষণাবেক্ষণ, পরিকাঠামোগত ত্রুটি এবং উচ্চ মূল্য হ্রাসের সুনির্দিষ্ট দাবি সম্বলিত একটি ৬৪ জনের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে শিলচর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনারের নিকট।
শহরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এদিনের এই প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতে। রূপম সাংস্কৃতিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক নিখিল পালের নেতৃত্বে উপস্থিত বিশিষ্ট জনেরা গান্ধী ভবনের করুণ চিত্র এবং শিল্পী সমাজকে প্রতিনিয়ত যে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন কমিশনারের সামনে। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে গান্ধী ভবনের মানোন্নয়ন ও জনমুখী করার স্বার্থে একাধিক জরুরি সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হলো, অডিটোরিয়ামে আধুনিক এয়ার কন্ডিশনিং ও মঞ্চের উপযুক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন এবং অবিলম্বে অচল ফ্যানগুলি মেরামত করা। শিল্পীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে গ্রিন রুমের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ। শৌচাগারগুলির নিয়মিত ও কঠোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। অডিটোরিয়ামের ছাদ চুইয়ে জল পড়া রোধ, ভাঙা আসন সংস্কার এবং আলোর সঠিক ব্যবস্থা করা। বর্তমান ধার্যকৃত প্রতিদিন ৮,০০০ টাকার অত্যধিক হল ভাড়া কমিয়ে স্থানীয় ও ছোট নাট্য বা সাংস্কৃতিক দলগুলির নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা।
নাগরিক সমাজের এই প্রতিনিধি দলের অভিযোগ ও দাবিগুলি গভীর মনোযোগ সহকারে শোনেন শিলচর মিউনিসিপ্যাল কমিশনার। তিনি গান্ধী ভবনের বেহাল দশার বিষয়টি ‘যুক্তিসঙ্গত’ বলে স্বীকার করেন এবং দ্রুত সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে, এই ঐতিহ্যমণ্ডিত ভবনটির সংস্কার ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার রূপরেখা তৈরি করতে একটি ‘কোর কমিটি’ গঠন করে পরবর্তী পরিকল্পনা দ্রুত চূড়ান্ত করার প্রস্তাব রাখেন তিনি।
প্রতিনিধি দলের পক্ষে জানানো হয়েছে যে, কমিশনারের এই ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপকে তাঁরা অত্যন্ত সাধুবাদ জানাচ্ছেন। তবে শুধুই আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, শীঘ্র যেন দৃশ্যমান এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন শিলচরের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। ঐতিহাসিক গান্ধী ভবনকে তার পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে দিতে এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে আবারও বাধাহীন করতে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের এই প্রশাসনিক উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক মহল।






