বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৬ আগষ্টঃ শিলচর শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট এবং জনদুর্ভোগের আশঙ্কা নিরসনে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করল সচেতন নাগরিক মঞ্চ ‘সি.আর.পি.সি.’ । শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রস্তাবিত ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জেরে যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ থমকে না যায়, তার জন্য আগে থেকেই শহরের বিকল্প রাস্তাগুলির ব্যাপক প্রসার, আধুনিকীকরণ এবং দ্রুত সংযোগরক্ষার সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে।
এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি সম্বলিত একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে পাঠানো হয়েছে। ২৪ আগস্ট ইমেইলের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে প্রেরিত এই স্মারকলিপির বিষয়বস্তু এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরতে মঙ্গলবার শিলচরে একটি বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
শিলচরের একটি স্থানীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে উপস্থিত থেকে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সি.আর.পি.সি.-র জেলার দুই সাধারণ সম্পাদক মধুসূদন দে ও কিশোর ভট্টাচার্য্য, বিশিষ্ট আইনজীবী আব্দুল হাই লস্কর, রাজেশ কুমার সিনহা এবং সচিব প্রধান সাধন পুরকায়স্থ।
নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, শিলচর শহরে ফ্লাইওভার নির্মাণের মতো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হলে স্বাভাবিকভাবেই শহরের ভেতরে জন চলাচল এবং যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ও অচলাবস্থা তৈরি হবে। অতীতে অন্যান্য বড় শহরের ফ্লাইওভার নির্মাণের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, এই সম্ভাব্য বিপর্যয় রোধ করতে হলে আগে থেকেই শহরের বিকল্প অভ্যন্তরীণ ও সংযোগরাস্তাগুলি উপযুক্ত করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সীমাহীন যন্ত্রণার মুখে পড়তে হবে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
শিলচর কর্পোরেশন এলাকা ও শহরতলির যানজট এড়াতে এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা সবসময় সচল রাখতে স্মারকলিপিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন ও প্রসারের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দিক হলো, জানিগঞ্জ–ভুইয়া লেন–পেশকারজাঙ্গাল ডাইক রোড দ্রুত যান চলাচল উপযোগী করে গড়ে তোলা।
বাকরশা মোকাম–কনকপুর–সোণাই রোড সংস্কার ও প্রসারিত করা। অন্নপূর্ণা ঘাট–নাথপাড়া নিউ কলোনি এবং রাঙ্গিরখাড়ি থেকে গোপাল আখরা পর্যন্ত রাস্তার মানোন্নয়ন। বাকরশা মোকাম, দাস কলোনি, পঞ্চায়ত রোড, তরুণী ও চণ্ডীচরণ রোডের দ্রুত উন্নয়ন। ন্যাশনাল হাইওয়ে এবং চিত্ত রঞ্জন এভিনিউকে চেংকুড়ি রোড ও চিরুকান্দি–রামনগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা। শহরের প্রথম ও দ্বিতীয় লিঙ্ক রোডকে আরও প্রশস্ত করা।
শুধু ফ্লাইওভার সংক্রান্ত বিকল্প রাস্তাই নয়, শিলচর কর্পোরেশন এলাকা এবং সমগ্র বরাক উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তের ভাঙাচোরা ও বেহাল রাস্তার প্রসঙ্গও কড়াভাবে উত্থাপন করেছে সংগঠনটি। সামনেই শারদোৎসব তথা দুর্গাপূজা। উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের ঢল নামে শহরের রাজপথে। অথচ বর্তমান বহু রাস্তার যে করুণ ও বেহাল দশা, তাতে উৎসবের দিনে তীব্র ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তাই দুর্গাপূজার ঠিক আগেই শহরের অন্তর্বর্তীকালীন ও প্রধান রাস্তাগুলি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে প্রেরিত এই জনস্বার্থ সংবলিত স্মারকলিপিতে সি.আর.পি.সি.-র কেন্দ্রীয় ও কাছাড় জেলা কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষর করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডা. তপোধীর ভট্টাচার্য, কিশোর কুমার ভট্টাচার্য এবং সাধন পুরকায়স্থ সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। শিলচরের পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবগুলি কতটা গুরুত্ব পায় এবং প্রশাসন ঠিক কত দ্রুত বিকল্প রাস্তাগুলির প্রসারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র শহরবাসী।






