ছত্তিশগড়ের রাজ্যপাল রমেন ডেকাকে নিয়ে আপত্তিকর কার্টুন ও পোস্ট শেয়ার করার ঘটনায় হাই কোর্টের বিশেষ রায়

ছত্তিশগড়ের রাজ্যপাল রমেন ডেকাকে নিয়ে তৈরি একটি কার্টুন তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন প্রণব কলিতা ও লক্ষ্যধর রাজবংশী নামের দুই যুবক। নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তা শেয়ার ও পুনঃপ্রকাশ করেন। পাশাপাশি অসমিয়া ভাষায় রাজ্যপালকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ও অবমাননাকর বক্তব্যও ক্যাপশনে লেখা হয়। অভিযোগ ওঠে, এর ফলে ছত্তিশগড়ের প্রথম নাগরিক তথা একটি সাংবিধানিক পদে থাকা রাজ্যপালের মর্যাদা ও জনসমক্ষে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

নির্ধারিত পোস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে বৈরিতা, ঘৃণা ও শত্রুতার মনোভাব তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুই রাজ্যের মধ্যে জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনায় রাজভবনের পক্ষ থেকে রায়পুরের সিভিল লাইন থানায় এফআইআর নম্বর ২৩২/২০২৬ দায়ের করা হয়। পরে রায়পুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলার অভিযোগপত্রও জমা পড়ে।

এফআইআর বাতিলের দাবিতে প্রণব কলিতা ও লক্ষ্যধর রাজবংশী ছত্তিশগড় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। ১৪ অগস্টের শুনানিতে আবেদনকারীরা নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ফেসবুক-সহ সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে আপত্তিকর বিষয়বস্তু স্থায়ী ভাবে সরিয়ে ফেলার এবং অসমে দায়ের হওয়া পাল্টা এফআইআর প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনোজ গোয়েল জানান, আবেদনকারীদের ওই আচরণ ক্ষমাযোগ্য নয় এবং তা গ্রহণযোগ্যও নয়। এর পর ১৯ অগস্ট আবেদনকারীরা ফের ক্ষমা চেয়ে হাই কোর্টে হলফনামা দাখিল করেন। পরবর্তী পর্যায়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি কঠোর শর্তে সমঝোতায় সম্মতি জানানো হয়।

শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে আদালতের সামনে লিখিত ভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মূল পোস্টটি প্রকাশ করা হয়েছিল সেই অ্যাকাউন্টেই সমান গুরুত্ব ও দৃশ্যমানতার সঙ্গে ক্ষমাপ্রার্থনা প্রকাশ এবং আবেদনকারীদের নিয়ন্ত্রণাধীন সমস্ত ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে আপত্তিকর বিষয়বস্তু স্থায়ী ভাবে মুছে ফেলা।এছাড়াও ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি না করার লিখিত অঙ্গীকার এবং অসমে দায়ের হওয়া পাল্টা এফআইআর প্রত্যাহার বা বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার শর্ত রাখা হয়।

আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, মামলাটি মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার ও পুনঃপ্রকাশকে কেন্দ্র করে। রাজ্য সরকার নির্ধারিত শর্ত মেনে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সম্মতি জানিয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর অধীনে আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে আবেদনকারীদের ক্ষমাপ্রার্থনা, সমঝোতা এবং প্রকাশিত বক্তব্যের প্রভাব যতটা সম্ভব কমিয়ে সাংবিধানিক পদের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।তবে আদালতের দেওয়া এই রেহাই নিঃশর্ত নয়। নির্ধারিত সমস্ত শর্ত অবিলম্বে পালন করতে হবে আবেদনকারীদের।

বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা প্রকাশ, সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে আপত্তিকর বিষয়বস্তু সরানো, সংবাদপত্রে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার অঙ্গীকার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর বিষয়বস্তু প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের পাশাপাশি সাংবিধানিক পদ ও তার মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিও যে আদালতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ, এই নির্দেশে তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

Related Posts

সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি কংগ্রেসের, গৌহাটি হাইকোর্টে ফিরল মামলা, আইনি সুতোয় ঝুলছে বিজেপি সাংসদ কৃপানাথ মাল্লার ভাগ্য!

১৮ হাজার ভোটের জয় নিয়ে এবার আইনি আতশিকাঁচের নিচে বিজেপি সাংসদ বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৬ আগষ্টঃ করিমগঞ্জ (বর্তমান শ্রীভূমি) লোকসভা কেন্দ্রের ২০২৪ সালের নির্বাচনী লড়াই কি তবে শেষ হয়েও শেষ…

হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়, ৫১ বছর পর বৈষম্যের অবসান, শনবিল সমবায়ে ফিরছেন বহিষ্কৃত মৎস্যজীবীরা

১ মাসের মধ্যে ৭০০ মুসলিম মাইমাল পরিবারের সদস্যপদ ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৬ আগষ্টঃ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জলভূমি শনবিলের বিশাল জলরাশি কোনোদিন তার বুক চিরে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *