মাতৃবন্দনা যোজনায় অসমে ২৩ কোটিও বেশি সহায়তা প্রদান

মুখ্যমন্ত্রী জানান, গর্ভাবস্থা ও সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়ে মহিলাদের যাতে নিজেদের পাশাপাশি নবজাতকের যথাযথ যত্ন নিতে সুবিধা হয়, সেই লক্ষ্যেই এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি বলেন, অসমে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও সদ্যোজাত শিশুর মায়েদের পাশে দাঁড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনা মূলত অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শিশুকে স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য একটি মাতৃত্বকালীন আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। গর্ভাবস্থা ও মাতৃত্বকালীন সময়ে কর্মসংস্থান বা মজুরি থেকে সম্ভাব্য আয়ের ক্ষতি কিছুটা পূরণ করা এবং মহিলাদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করাই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির যোগ্য মহিলাদের জন্য এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই ৭৮ হাজারের বেশি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং সন্তান প্রসবের পরবর্তী পর্যায়ে থাকা মায়েরা রয়েছেন। মোট আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি।

গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসব এবং নবজাতকের পরিচর্যার সময় একটি পরিবারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। চিকিৎসা, পুষ্টি, ওষুধ এবং শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যার জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয়। এই পরিস্থিতিতে সরকারি আর্থিক সহায়তা মহিলাদের জন্য কিছুটা হলেও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।

প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত যোগ্য মহিলাদের কাছে পৌঁছে যায়, তার জন্য সুবিধাভোগীদের নথিভুক্তকরণ এবং সরাসরি তাঁদের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকার মহিলাদের প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দিচ্ছে সরকার।

অসমে মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের স্বাস্থ্যপরিষেবা, পুষ্টি, নিরাপদ সন্তান প্রসব এবং নবজাতকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনার আর্থিক সহায়তাকেও সেই বৃহত্তর কল্যাণমূলক কর্মসূচির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্তানসম্ভবা নারী যাতে আর্থিক সমস্যার কারণে নিজের স্বাস্থ্য এবং নবজাতকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে কোনোভাবে পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আগামী দিনে মাতৃত্বকালীন কল্যাণ প্রকল্পগুলির আওতা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি যোগ্য মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দেবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

সরকারের মতে, সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মহিলাদের কাছে এই ধরনের সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া গেলে মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুকল্যাণের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Related Posts

শিলচরে ব্যবসার নামে লোভনীয় লভ্যাংশের ফাঁদ পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিলচরের বেরেঙ্গার সাদ্দামের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

গ্রেপ্তারির পর জামিনে বেরিয়ে সামাজিক বিচারসভার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ; ২৫ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই উধাও প্রতারক। বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলচরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি…

পাথারকান্দির ছাগলময়ায় গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে অটোচালক ও মহিলা যাত্রীকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ।

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ আসামের শ্রীভুমি জেলার সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা পাথারকান্দির ছাগলময়ায় আবারও এক বর্বর ও চাঞ্চল্যকর মারপিটের ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। চলন্ত গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *