কাজিরাঙা বিতর্কে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত : মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কাজিরাঙার চারপাশে ইএসজেড তৈরি করা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অংশ। তবে এর ফলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, জমি, জীবিকা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে যাতে অযথা সমস্যা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং তাঁদের অসুবিধা দূর করেই ইএসজেড বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য, কাজিরাঙার দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা কেবল সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

জাতীয় উদ্যানের আশপাশে বসবাসকারী মানুষই বন্যপ্রাণী ও বনাঞ্চল রক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কাজিরাঙাকে কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে কাজিরাঙাকে রক্ষা করা যাবে না। কাজিরাঙার প্রকৃত রক্ষাকর্তা হলেন সংলগ্ন এলাকার মানুষ। তাঁদের ক্ষুব্ধ করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক হবে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে নিয়েই সরকার কাজ করবে বলে তিনি জানান।

কাজিরাঙার ইএসজেডের পরিধি কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রতিবাদে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি ২৯ আগস্ট রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ও ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পের চারপাশে বর্তমানে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ইএসজেডের পরিবর্তে তা কমিয়ে ১ কিলোমিটার করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে কংগ্রেস।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কংগ্রেস কর্মীরা পদযাত্রা, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। শোণিতপুর, শিবসাগর, লখিমপুর, হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমি সহ বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মুখ্যমন্ত্রীর আগের মন্তব্যের পরই এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল।

তবে মুখ্যমন্ত্রী ২৭ আগস্ট স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, তিনি ১ কিলোমিটার ইএসজেডের কথা বিশেষভাবে বোকাখাত এলাকার প্রসঙ্গে বলেছিলেন। কাজিরাঙার গোটা ভূদৃশ্যের ক্ষেত্রে একই মাপের ইএসজেড কার্যকর করার পরিবর্তে স্থানভেদে পরিস্থিতি অনুযায়ী পৃথক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান। বন্যপ্রাণীর চলাচল, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং ব্রহ্মপুত্র নদের অবস্থান সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ইএসজেডের পরিধি নির্ধারণ করা হতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন কাজিরাঙায় গণ্ডার সংরক্ষণ ও চোরাশিকার দমনে সরকারের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে গণ্ডার চোরাশিকার নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে এবং কাজিরাঙাকে এমন একটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে, যা নিয়ে অসমবাসী গর্ব করতে পারেন। আগামী দিনে কাজিরাঙার উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। তবে ইএসজেড নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেও সরকার যে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই এগোতে চাইছে, মুখ্যমন্ত্রীর বুধবারের বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে।

কাজিরাঙার পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা এবং স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ দূর করে কীভাবে কাজিরাঙার পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করা যায়, আগামী দিনে সেই ভারসাম্যপূর্ণ নীতির দিকেই রাজ্য সরকারের নজর থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

পুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল মৃত্যুমিছিলে! চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর

বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়, পিছন থেকে ধাক্কা, তার পরই হুড়োহুড়ি! বহু আহতের অবস্থা সংকটজনক, মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ অক্টোবরঃ পুজোর আনন্দ, আলোর ঝলকানি আর…

২০২৩ সালেই কি শুরু হয়েছিল ‘নির্বাচনী নিয়ন্ত্রণের’ আসল খেলা?

বিরোধীদের ঘুম ভাঙতে দেরি, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ঘিরে প্রশ্নের মুখে গণতন্ত্রের নিরপেক্ষতা বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ অক্টোবরঃ ভারতের গণতন্ত্রে নির্বাচন কমিশন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং অবাধ ও…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *