বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২০ অক্টোবরঃ মহানবমীর আনন্দ ও ঢাকের কাঠি যখন জিরিঘাটের আনাচে-কানাচে উৎসবের সুর ছড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিমিষেই থমকে গেল পুরো এলাকা। জিরি নদীর জলে ডুবে প্রাণ হারালেন এক ২১ বছরের নববিবাহিতা যুবতী এবং মাত্র ৯ বছর বয়সের এক অবোধ শিশু। এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় মহানবমীর পুণ্য তিথিতে আনন্দের পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে শোকে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। আকস্মিক এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত পুরো জিরিঘাট অঞ্চল। উৎসবে মেতে ওঠা দুটি পরিবারে এখন কেবলই স্বজন হারানোর আর্তনাদ ও হাহাকার।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহানবমীর দিন জিরি নদীর পাড়ে ঘটে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। মৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে, গৌতমি রায় (২১), স্বামী: অশোক নমশূদ্র। সুরজিৎ নমশূদ্র (৯), পিতা: সুজন নমশূদ্র। উৎসবের দিনে জিরি নদীর ধারে গেলে অসাবধানতাবশত বা আচমকা নদীর পাড় ভেঙে বা স্রোতের টানে গভীর জলে তলিয়ে যায় ৯ বছরের শিশু সুরজিৎ। তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে গিয়ে জিরি নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান ২১ বছর বয়সি যুবতী গৌতমি রায়ও।
নদীতে দুজন তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। নদী থেকে যখন তাঁদের তুলে আনা হয়, ততক্ষণে সব শেষ। চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করতেই নদীর পাড়ে উপস্থিত প্রতিবেশীদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। মহানবমীর প্রাক্কালে এমন অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো জিরিঘাট পঞ্চায়েত এলাকায় নেমে এসেছে এক অলিখিত শোকের নীরবতা। খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় শোক প্রকাশ করেছেন জিরিঘাটের পঞ্চায়েত সভাপতি শান্তনু চৌধুরী।
গভীর সমবেদনা জানিয়ে জিপি সভাপতি শান্তনু চৌধুরী বলেন, মহানবমীর মতো মহাপূজোর দিনে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। একটি অবোধ শিশু এবং এক সদ্য বিবাহিতা যুবতীর এই অকালমৃত্যু পুরো জিরিঘাটের মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আমরা শোকার্ত পরিবার দুটির পাশে আছি। ঈশ্বর যেন এই কঠিন সময়ে স্বজনহারা দুটি পরিবারকে এই অপরিসীম শোক সহ্য করার শক্তি দেন।
শারদোৎসবের মহানবমী মানেই যেখানে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দর্শনের ভিড়, আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর আলোকসজ্জা—সেখানে জিরিঘাটের এই দুর্ঘটনা প্রতিটি মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে গেছে। পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা উৎসবের দিনে নদী ও জলাশয়ের পাশে চলাফেরার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দুটি সতেজ প্রাণের এভাবে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না জিরিঘাটের মানুষ। মহানবমীর পুণ্য লগ্নে মৃতদের আত্মার চিরশান্তি কামনা করার পাশাপাশি পুরো জিরিঘাটবাসী এখন একযোগে পাশে দাঁড়িয়েছেন শোকস্তব্ধ দুটি পরিবারের।





