বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২০ অক্টোবরঃ মহাষ্টমীর পবিত্র রাত ও উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে রূপ নিল এক রণক্ষেত্রে! মহাসপ্তমী কিংবা মহাষ্টমীর রাতে যেখানে লাখো মানুষের ভিড়ে ভক্তি ও উল্লাসে মেতে থাকে চারপাশ, ঠিক সেই সময়েই কাছাড় জেলার উদহারবন্দের বিখ্যাত কাঁচাকান্তি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ঘটল এক অভাবনীয় ও লজ্জাজনক ঘটনা।
ট্রাফিক আইন অমান্য করাকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে প্রকাশ্য রাস্তায় বচসা, হাতাহাতি এবং খোদ পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মতো গুরুতর অপরাধে শ্রীভূমি জেলার বদরপুর এলাকার দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উৎসবের রাতে আইনি ঔদ্ধত্যের ঘটনায় পুরো উধারবন্দ জুড়েই তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত মহাষ্টমীর গভীর রাতে ঘড়ির কাঁটায় তখন আনুমানিক রাত সাড়ে বারোটা। উৎসবের ভিড় ও দুর্ঘটনা এড়াতে উধারবন্দের ঐতিহাসিক কাঁচাকান্তি মন্দির সংলগ্ন সড়কগুলিতে কঠোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জারি করেছিল প্রশাসন। মন্দির এলাকায় যানজট এড়াতে টাঙানো হয়েছিল স্পষ্ট ‘নো এন্ট্রি’ সাইনবোর্ড।
অভিযোগ রয়েছে, সমস্ত সরকারি নির্দেশ ও ট্রাফিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই নিষিদ্ধ পথ দিয়েই বাইক বা গাড়িতে করে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করেন বদরপুরের দুই যুবক। সেই সময় মন্দিরের সুরক্ষায় ও যান চলাক নিয়ন্ত্রণ করতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যাটালিয়নের কর্মীরা তাঁদের পথ আটকান এবং নিয়মবিধি মনে করিয়ে দেন।
কিন্তু নিয়ম মানার বদলে মেজাজ হারান ওই দুই যুবক। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে প্রথমে শুরু হয় তুমুল কথাকাটাকাটি। মুহূর্তের মধ্যে সেই বচসা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উসকানিমূলক আচরণ ছেড়ে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি ধস্তাধস্তি ও টানাহেঁচড়ায় জড়িয়ে পড়েন ওই দুই যুবক। উৎসবে মেতে থাকা সাধারণ মানুষ ও পুজোদর্শনার্থীরা এই অভব্য আচরণ দেখে হতবাক হয়ে যান।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে খবর দেওয়া হয় উধারবন্দ থানায়। মুহূর্তের মধ্যে উধারবন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক এর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করার এবং দুই যুবককে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাঁরা আইনকে তোয়াক্কা না করে আরও চড়াও হন বলে অভিযোগ।
কোনোমতে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ওই দুই যুবককে আটক করে যখন পুলিশের ভ্যানে তোলার চেষ্টা করা হয়, তখন পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। ধৃতদের একজন, সন্দীপ দাস, পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ফের ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের গাড়িতে তোলার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে গাড়ির ভেতরেই ভাঙচুর চালান ওই যুবকেরা। সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর ও খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এমন শারীরিক আক্রমণ দেখে পুলিশও কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং গাড়ি ভাঙচুরের মতো অত্যন্ত গুরুতর ও অসংবিধানিক অভিযোগে সঙ্গে সঙ্গেই ওই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত দুই যুবকের পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ, কমলদীপ দে (বদরপুর, শ্রীভূমি), সন্দীপ দাস (বদরপুর, শ্রীভূমি)
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, সরকারি নির্দেশ অমান্য করা, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা দান এবং জনসমক্ষে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ভাঙচুরের অপরাধ। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবারই তাঁদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মহাপূজোর আনন্দ ও ভক্তিমূলক পরিবেশকে কলুষিত করে যারা এই ধরনের অপরাধমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উধারবন্দের সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পুজো কমিটি। উৎসব মানেই স্বেচ্ছাচারিতা বা আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখানো নয়, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, কিছু উশৃঙ্খল যুবকের বেপরোয়া মনোভাব কীভাবে সামাজিক শান্তি বিনষ্ট করতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এই ধরনের প্রকাশ্য আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় এখন এই অপরাধের কী সাজা হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা উধারবন্দ ও শ্রীভূমিবাসী।





