উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ৫০ হাজার কোটির, প্যাকেজ অনুমোদন রাজ্য মন্ত্রিসভার

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, রাজ্যের নিজস্ব আর্থিক সম্পদ, জাতীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যাঙ্ক বা নাবার্ডের সহায়তা এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হবে। রাজ্যের অর্থনীতি ও জনপরিষেবার পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করাই এই প্যাকেজের প্রধান লক্ষ্য।

প্রস্তাবিত প্যাকেজের আওতায় চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য আবাসন নির্মাণ, বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের পরিকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন, ছাত্রকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি, মহিলাদের জন্য বাজার এবং মহিলা আবাসন নির্মাণের মতো একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নত করা হবে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হবে।

অসমের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা বন্যা মোকাবিলাতেও এই প্যাকেজের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করা হবে। বিভিন্ন এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজ্যের বন্যা মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিল্পক্ষেত্রের পরিকাঠামো শক্তিশালী করে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হবে।

এদিকে, ক্যানসার চিকিৎসার পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে প্রোটন বিম থেরাপি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ৬০০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। অত্যাধুনিক এই চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু হলে ক্যানসার রোগীদের উন্নত ও তুলনামূলকভাবে নির্ভুল বিকিরণ চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে। শুধু অসম নয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তের রোগীরাও এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করা নয়, বরং এমন পরিকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যার সুফল দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের মানুষ পাবেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিল্প, আবাসন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ সবকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে একই সঙ্গে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই বৃহৎ প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে।

এই অর্থ মূলত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, বিদ্যালয় ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উন্নয়ন এবং চা-বাগান শ্রমিকদের জন্য আবাসন নির্মাণে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যের সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামো উন্নত করার জন্যও অর্থ বরাদ্দ করা হবে।

বন্যাপ্রবণ এলাকায় বাঁধ আরও শক্তিশালী করার কাজেও এই প্যাকেজের একটি অংশ ব্যবহার করা হবে। সরকারের মতে, এই বিনিয়োগ কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, আবাসন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২ সেপ্টেম্বর দেড়গাঁওয়ে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে এসএসপি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর যোরহাটে অনুষ্ঠিত হবে জেলা কমিশনারদের সম্মেলন। প্রশাসনিক কাজের অগ্রগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে এই সম্মেলনগুলিতে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এছাড়া ‘জীবন প্রেরণা’ এবং ‘মুখ্যমন্ত্রী বিমান প্রকল্প’-এর আওতায় সুবিধাভোগীদের জন্য অর্থ ১ সেপ্টেম্বর থেকে উপলব্ধ হবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন উন্নত ক্যানসার চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়ে উঠবে, অন্যদিকে রাজ্যের সামগ্রিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও জনপরিষেবা ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের সম্প্রসারণ ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ৩০ আগস্ট ক্ষুদ্র শিল্প দিবস উপলক্ষে অসমের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ বা এমএসএমই ক্ষেত্রের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি বলেন, একটি প্রাণবন্ত ও স্বনির্ভর অর্থনীতির মেরুদণ্ড হল ক্ষুদ্র শিল্প।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার শিল্পোদ্যোগীদের ক্ষমতায়ন, নতুন উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহ এবং অসমের যুবসমাজকে নিজেদের ধারণাকে ব্যবসায়িক উদ্যোগে পরিণত করার ক্ষেত্রে সহায়তা করে যাবে।

তাঁর মতে, নতুন শিল্প ও উদ্যোগ গড়ে উঠলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, তেমনই রাজ্যের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। ক্ষুদ্র শিল্প দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা এবং একই সময়ে ৫০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্যাকেজ অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে রাজ্যে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর সরকারের বাড়তি গুরুত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Related Posts

বিকশিত ভারতের স্বপ্নে ঘোর অনিশ্চয়তা ও নৈরাশ্যের আঁধারে তলিয়ে যাচ্ছে  তরুণদের ভবিষ্যৎ

৩৭ কোটি জেন জির এক-চতুর্থাংশই কাজহীন, শিক্ষাহীন ও প্রশিক্ষণহীন নীতি আয়োগের রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩১ আগষ্টঃ ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী এক তরুণ ও উদীয়মান ভারতের উজ্জ্বল…

এভারেস্টের মশলায় এফএসএসএআই এর লাল সংকেত!

ভুল লেবেলিং ও নিম্নমানের অভিযোগে নোটিস, এগকারি, চিকেন ও গরম মশলাও তদন্তের আওতায়, জবাব তলব খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩১ আগষ্টঃ রান্নাঘরের চাবিকাঠি কি আজ স্লো-পয়সনিংয়ের লাইসেন্স হয়ে উঠছে?…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *