বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ মাদক পাচার ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অসম সরকারের কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে রাজ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। নলবাড়ি জেলার দৌলাশালে রাজ্যের প্রথম মাদকদ্রব্য দহনকেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত মাদক পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
১০০ দিনের সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার এবং পাচারচক্র ধ্বংস করার পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত মাদক দ্রুত ধ্বংস করার প্রক্রিয়াও জোরদার করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, মাদক কারবারিদের কাছে সরকারের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট, অসমে মাদক পাচার ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের লুকিয়ে থাকার কোনও জায়গা নেই।
‘সুরক্ষিত অসম’-এর ১০০ দিনের কর্মকাণ্ডের বিবরণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নলবাড়ির দহনকেন্দ্রে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত মাদকদ্রব্য ধ্বংস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক ১০ দিনের মাদকবিরোধী অভিযানে অসমের নয়টি জেলায় মোট ৪৭২ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে ছিল ৩০.৭ কেজি হেরোইন এবং ৫,৪৯৯ কেজি গাঁজা।
এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনা রাজ্যে সক্রিয় পাচারচক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ব্যাপকতা তুলে ধরেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ২০২১ সালের মে মাসে প্রথমবার অসমের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদকবিরোধী অভিযানকে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সীমান্তপথে মাদক পাচার, আন্তঃরাজ্য পাচারচক্র এবং স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। সরকারের দাবি, উদ্ধার ও ধ্বংসের পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের মূল কাঠামো ভেঙে দেওয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাদকমুক্ত ও নিরাপদ অসম গড়ার লক্ষ্যে আগামী দিনেও অভিযান আরও তীব্র করা হবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে রাজ্যের যুবসমাজকে মাদকের কবল থেকে দূরে রাখা এবং মাদক পাচারচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই মূল লক্ষ্য।




