বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে অসম। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে গুয়াহাটি ও ব্যাংককের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হতে চলেছে। বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এই নতুন আন্তর্জাতিক রুটে বিমান পরিষেবা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গুয়াহাটি থেকে সরাসরি ব্যাংকক বিমান পরিষেবা চালু হওয়ায় অসমের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ আরও সহজ ও শক্তিশালী হবে। এর ফলে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, দুবাই ও আবুধাবির পর এবার ব্যাংককের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথে যুক্ত হতে চলেছে গুয়াহাটি। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ইন্ডিগো গুয়াহাটি ও ব্যাংককের মধ্যে সরাসরি বিমান চালাবে। এই পরিষেবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে অসমের যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার তৈরি করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন এই আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালু হলে শুধু অসম নয়, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষও উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীদের অনেক সময় অন্য শহর বা দেশের বিমানবন্দরে সংযোগকারী বিমান ধরতে হতো। গুয়াহাটি থেকে সরাসরি ব্যাংকক পরিষেবা চালু হলে সেই সময় ও যাত্রাপথের জটিলতা অনেকটাই কমবে।
পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রেও এই নতুন বিমান পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। অসমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান, চা-বাগান এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটকদের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একইভাবে অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটকরাও ব্যাংকক সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে সহজে যেতে পারবেন।
ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সরাসরি বিমান যোগাযোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে অসমের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুয়াহাটির গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
দুবাই ও আবুধাবির সঙ্গে বিমান যোগাযোগের পর ব্যাংককের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গুয়াহাটিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলকেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। নতুন এই রুট চালুর মাধ্যমে অসমের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটন, বাণিজ্য ও যাতায়াতের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




