এবিভিপি-এনএসইউআই সংঘর্ষের পর শৃঙ্খলা ফেরাতে কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাকি রাজনীতির আখড়া? মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কাছাড় কলেজ ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া তুলকালাম কাণ্ড ফের এই প্রশ্নটিই তুলে দিল। হিজাব পরিধানকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে কলেজ চত্বর।
অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এনএসইউআই)-এর সদস্যদের মধ্যে তুমুল সহিংস সংঘর্ষের পর এবার কড়া অবস্থান নিল কলেজ প্রশাসন। শৃঙ্খলা ফেরাতে বদ্ধপরিকর কলেজের অধ্যক্ষ অপ্রতীম নাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, নির্ধারিত ইউনিফর্ম সকলকেই মেনে চলতে হবে।
মঙ্গলবার ছাত্রাবস্থায় সৃষ্ট এই সংঘাত নিরসনে কলেজ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অধ্যক্ষ অপ্রতীম নাগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কলেজ প্রশাসন ছাত্রছাত্রীরা যাতে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ইউনিফর্ম কঠোরভাবে মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
অধ্যক্ষ স্মরণ করিয়ে দেন, কলেজের আনুষ্ঠানিক ইউনিফর্ম বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ও ছাত্রীদের পোশাকের নিয়মাবলি ছবির মাধ্যমে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির নিয়ম অনুযায়ী, ছাত্রদের জন্য ট্রাউজার এবং শার্ট পরা বাধ্যতামূলক। ছাত্রীদের জন্য, সালোয়ার-কামিজ অথবা চুড়িদার-কামিজের সঙ্গে ওড়না পরা বাধ্যতামূলক।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, অধ্যক্ষ নাগ বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ছাত্রীদের নির্ধারিত ইউনিফর্মের ছবিতে ঠিক যে পদ্ধতিতে ওড়না পরার কথা দেখানো হয়েছে, তাদের সেভাবেই তা পরতে হবে। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত ইউনিফর্ম থেকে কোনো ধরনের পরিবর্তন, পরিমার্জন বা বিচ্যুতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই হিজাব বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে যে, পরীক্ষার সময় কয়েকজন ছাত্রী তাদের হিজাবের ভেতরে ব্লুটুথ ইয়ারবাড লুকিয়ে রেখেছিল।
এই বিস্ফোরক অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ নাগ জানান, পরীক্ষার সময় ছাত্রীদের যথাযথভাবে তল্লাশি করা হয়েছিল এবং এ ধরনের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে ও ধরা পড়ে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিনব উপায়ে নকল করার প্রবণতা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে তিনি চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর এই সতর্ক প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা বাড়িয়েছে।
মঙ্গলবারের এই সংঘর্ষের সূত্রপাত মূলত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। জানা যায়, কলেজ ক্যাম্পাসে এনএসইউআই-এর একটি সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলছিল, যা নিয়ে এবিভিপি এবং এনএসইউআই-এর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র বচসা এবং পরবর্তীতে তা সহিংস রূপ নেয়।
এই প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ অপ্রতীম নাগ নিশ্চিত করেছেন যে, এনএসইউআই-এর ওই কর্মসূচিটি সম্পূর্ণ বেআইনি ছিল না। তাঁর দাবি, ক্যাম্পাসে সদস্য সংগ্রহ অভিযানটি চালানোর আগে সংগঠনটি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে রীতিমতো লিখিতভাবে অনুমতি চেয়েছিল এবং তাঁর অনুমতি নিয়েই এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছিল।
মঙ্গলবারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর গোটা কলেজ চত্বরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে সংঘাত নিরসনে ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কলেজ প্রশাসন যে কঠোর হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, অধ্যক্ষের বিবৃতিতেই তা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষের এই কড়া নির্দেশের পর কাছাড় কলেজের পরিবেশ শান্ত হয়, নাকি এই পোশাক-বিতর্ক আগামী দিনে নতুন কোনো রাজনৈতিক মাত্রা পায়।






