স্কুল-কলেজে ন্যূনতম সুবিধা নেই, ৯৯ শতাংশ চাকরিতেই দুর্নীতি, মোদী সরকারের পোস্টার বয়, রামদেবের মুখে বুমেরাং!

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পতঞ্জলি যোগপীঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর এই মন্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তাঁর পাশে পতঞ্জলি যোগপীঠের মহাসচিব আচার্য বালকৃষ্ণ সহ বহু সাধক উপস্থিত থাকলেও, রামদেবের মুখে ছিল শুধুই সরকারের নীতি ও দেশের বর্তমান ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা।

ঝাড়খণ্ডের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন জোগাতে গিয়ে দেশের সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন স্বামী রামদেব। ইন্টারভিউ ও ভাইভা বোর্ডগুলিকে দুর্নীতির কারখানা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন: সরকারি চাকরিতে সাক্ষাৎকারের সময় প্রায় ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই ভয়াবহ দুর্নীতি হচ্ছে। যোগ্যতা বা মেধার স্থান নেই, আগে থেকেই দরদাম হাঁকিয়ে লক্ষ লক্ষ ও কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে চাকরি বিলি করা হচ্ছে।

নিজের জাতি, বিশেষ সম্প্রদায় এবং দলীয় মতাদর্শের লোকেদের অন্যায্যভাবে চাকরি পাইয়ে দিয়ে যোগ্য ও সাধারণ পরীক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। একদিকে মুখে ‘সত্যমেব জয়তে’ স্লোগান হাঁকানো হচ্ছে, আর অন্যদিকে পর্দার আড়ালে চরম অপকর্ম চলছে। এই অপমানজনক ব্যবস্থা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর একদম মূল গোড়ায় আঘাত হানছে।

দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন যোগগুরু। তিনি চাঁচাছোলা ভাষায় দেশের তৃণমূল শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চিত্রটি ফুটিয়ে তোলেন, প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকার ছোট ছোট স্কুল-কলেজগুলিতে পানীয় জল, বিদ্যুতের সংযোগ, পরিচ্ছন্ন শৌচালয় এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকের মতো মৌলিক সুবিধাও নেই। বাধ্য হয়ে ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হচ্ছে।

যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম পরিকাঠামো বা শিক্ষক রয়েছে, সেখানে আবার নিয়মিত প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ব্যাপক টুকাটুকির উৎসব চলছে। শিক্ষা ব্যবস্থার এই দ্বৈত অরাজকতা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুধু দুর্নীতি বা শিক্ষাই নয়, দেশের বর্তমান বিষাক্ত রাজনৈতিক আবহ নিয়েও তোপ দাগেন রামদেব। সংসদের ভেতরের কাদা ছোঁড়াছুড়িকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আজ দেশের শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যকার সম্পর্ক দেখে মনে হয় যেন ভারতের ভেতরেই ভারত ও পাকিস্তান লড়াই করছে! রাজনৈতিক ও জাতিগত উদ্দেশ্যে যারা দেশে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, তাদের কড়া সমালোচনা করে তিনি পরামর্শ দেন, শাসক দলের দায়িত্ব হলো দেশের বিরোধী পক্ষকে পিতা-মাতার মতো ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখা, বিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজনীতি করা নয়।

যদিও তিনি তরুণদের জেন-জি আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করাকে সমর্থন করেননি এবং স্বাধীনতার অপব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন, তবুও তাঁর মূল তির ছিল প্রশাসনের অপশাসনের দিকেই। একসময় যিনি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বর্তমান বিজেপি-চালিত সরকারকে ক্ষমতার মসনদে বসাতে অনুঘটকের ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেই বাবা রামদেবের মুখে ফের বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি কিন্তু দিল্লির নর্থ-সাউথ ব্লকের জন্য এক বিরাট সতর্কবার্তা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি জল অনেক দূর গড়িয়েছে? সময়ই তার উত্তর দেবে।

Related Posts

বিশ্বগুরু হওয়ার ফাঁপা দাবি! শীর্ষ দুই সংস্থা এনসিইআরটিতে অর্ধেকের বেশি এবং সিবিএসইতে ৪৪% পদ খালি

প্রাথমিকে ৬ কোটি পড়ুয়া থাকলেও উচ্চমাধ্যমিকে পৌঁছানোর আগেই স্কুলছুট ৭৩% শিক্ষার্থী, জাঁতাকলে বিশ্বমানের স্বপ্ন বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৬ আগষ্টঃ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দুই মূল স্তম্ভ, ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ…

গোমূত্রে মিলবে লক্ষ্মী? লিটারপ্রতি ১০ টাকায় সংগ্রহের ধামাকা স্কিম উত্তরপ্রদেশে, রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে

যোগীরাজ্যে লিটারপ্রতি ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গোমূত্র! বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৬ আগষ্টঃ দুধ দেওয়া বন্ধ করে দিলে যে গরুকে এতদিন অনেকে গ্রামীণ অর্থনীতির বোঝা বলে মনে করতেন, সেই গরুই এবার…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *