বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩১ আগষ্টঃ অসমের বিভিন্ন প্রান্তে নকল ওষুধের কারবার এবং নিয়মবহির্ভূত ফার্মেসির সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, অসম। সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ করতে আরও কঠোর নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, অসমের উপদেষ্টা সফিউর রহমান খান অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় যথাযথ নিয়ম ও অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক ওষুধের দোকান বা ফার্মেসি গড়ে উঠছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ফার্মেসি প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বা প্রশিক্ষণ না থাকা ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ওষুধ সরাসরি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত।
ফলে অযোগ্য ব্যক্তির হাতে ওষুধ বিক্রির দায়িত্ব চলে যাওয়া এবং অনুমোদনহীন ফার্মেসির মাধ্যমে ওষুধের ব্যবসা পরিচালিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে রোগীরা সঠিক ওষুধের পরিবর্তে নকল বা নিম্নমানের ওষুধ পাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যেই নকল ওষুধ এবং অবৈধ ফার্মেসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। তবে শুধু অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মনে করেন খান। তাঁর মতে, নিয়মিত পরিদর্শন, ওষুধের গুণমান যাচাই এবং বেআইনি ব্যবসার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, নকল ওষুধ বিক্রি কিংবা অবৈধভাবে ফার্মেসি পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনে যদি যথেষ্ট কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা উচিত। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে অন্যরাও এ ধরনের বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকে।
বিশেষ করে নগাঁও জেলায় ওষুধের দোকান ও ফার্মেসিগুলির ওপর নজরদারি বাড়াতে ড্রাগ ইনস্পেক্টরের সংখ্যা বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান জনবল দিয়ে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় নিয়মিতভাবে সমস্ত ওষুধের দোকান পরিদর্শন করা কঠিন। ফলে পর্যাপ্ত সংখ্যক ড্রাগ ইনস্পেক্টর নিয়োগ করা জরুরি। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে পৃথকভাবে ‘ফার্মেসি ইনস্পেক্টর’ পদ সৃষ্টি করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন সাফিউর রহমান খান।
তাঁর মতে, এই ধরনের বিশেষজ্ঞ পরিদর্শক নিয়োগ করা হলে ফার্মেসিগুলির লাইসেন্স, ওষুধ বিক্রির নিয়ম, ফার্মাসিস্টের যোগ্যতা এবং ওষুধ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। খান বলেন, নকল ওষুধ এবং অবৈধ ফার্মেসির বিস্তার বন্ধ করতে সরকারকে আরও কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
রোগীদের হাতে যে ওষুধ পৌঁছাচ্ছে, তা নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কি না, তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এজন্য স্বাস্থ্য দফতর, ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের মধ্যে আরও সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।






