আদালতের নিষেধাজ্ঞা শিকেয় তুলে রমরমা! লক্ষ্মীপুরে লটারির নামে কোটি টাকা হাতিয়ে চম্পট প্রতারক চক্র
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক 28 অক্টোবরঃ মহামান্য আদালত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্পষ্ট ফরমান রাজ্যে কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না লটারির অবৈধ রমরমা কারবার! কিন্তু আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে, প্রশাসনকে প্রকাশ্য উপহাস করে কাছাড় জেলার লক্ষ্মীপুরে দিব্যি চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এই প্রতারণার জমজমাট আসর। আকর্ষণীয় উপহারের লোভ দেখিয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের রক্ত-ঘাম ঝরানো লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর এবার রাতারাতি কাউন্টার বন্ধ করে হাওয়া হয়ে গেছে চক্রের মূল পান্ডারা। সর্বস্বান্ত হওয়া সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাসে এখন ভারী হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুরের বাতাস।
কাছাড়ের লক্ষ্মীপুর ফুলেনতল বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় গত বেশ কিছুদিন ধরে রমরমিয়ে চলছিল এই অবৈধ লটারি খেলা। মাত্র ১০০ টাকার টিকিটে গাড়ি, বাইক, থেকে শুরু করে সোনা-রূপা ও বহুমূল্য ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর মতো লোভনীয় উপহার জেতার হাতছানি দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হচ্ছিল। শত শত নিরীহ মানুষ ভবিষ্যতের আশায় বা ভাগ্যের চাকার টানে জমানো শেষ সম্বলটুকু তুলে দিয়েছিলেন এই প্রতারকদের হাতে।

কিন্তু গত ২৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের প্রাথমিক হস্তক্ষেপের পর সেই লটারি খেলার দিন পিছিয়ে আজকের (২৭ অক্টোবর) জন্য ধার্য করা হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের আশা ছিল, নির্ধারিত দিনেই হয়তো ভাগ্যের ফয়সালা হবে। কিন্তু আজ মঙ্গলবার সকালে ঘুম ভাঙতেই লক্ষ্মীপুরবাসী দেখলেন এক বীভৎস কাণ্ড লটারির সেই লোভনীয় কাউন্টারের শাটার নামানো, আর ভেতর থেকে সব সাঙ্গ!
কাউন্টারের সামনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দেখতে পান, সেখানে একটি নোটিশ ঝুলিয়ে লটারির ড্র-এর তারিখ নাকি পিছিয়ে ‘কালীপুজো’ পর্যন্ত করা হয়েছে! কিন্তু এই নোটিশ যে শুধুই সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর একটি ফাঁকা বুলির চাল, তা বুঝতে সময় লাগেনি প্রতারিতদের। তদন্তের স্বার্থে যখন স্থানীয়রা এবং ভুক্তভোগীরা আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, তখন দেখা যায় স্থানীয় ও বহিরাগত সমস্ত লটারি কারবারির মোবাইল ফোন সুইচড অফ। কাউন্টারের চারপাশের এলাকা এখন সম্পূর্ণ জনশূন্য। শত শত মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে এই চতুর চক্র যে রাতের অন্ধকারে চম্পট দিয়েছে, তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।
গত মাসেই (সেপ্টেম্বর) যেখানে পুলিশ স্বয়ং হস্তক্ষেপ করেছিল, তারপরেও কীভাবে দিনের পর দিন এই অবৈধ কাউন্টার সচল রইল এবং অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেওয়ার সুযোগ পেল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে জনমনে। প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার জিরো টলারেন্স নীতি এবং আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পুলিশি নজরদারির ফাঁক গলে কীভাবে লক্ষ্মীপুরের বুকে এই বিশাল প্রতারণা চক্র জাল বিস্তার করল? ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, আজ যখন সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে রাস্তায় বসেছেন তাঁরা, তখন এর দায় কে নেবে? স্থানীয় প্রশাসন কি আগে থেকেই এই চক্রের দৌরাত্ম্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল না?
উপায়ান্তর না দেখে এবং প্রতারকদের টিকিটের বিনিময়ে দেওয়া কষ্টের টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো রাস্তা না পেয়ে এখন ফুঁসে উঠেছে লক্ষ্মীপুরবাসী। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন অবিলম্বে এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের সিআইডি তদন্ত এবং পুলিশ প্রশাসনের কঠোর জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
লটারির এই অবৈধ কারবারের নেপথ্যে ঠিক কোন কোন রাঘববোয়াল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক বা অসামাজিক চক্রের হাত রয়েছে, তা খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার রাজ্যে আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে, তাদের কড়া হাতে দমন না করলে আগামী দিনে এই জাল আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়বে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।




