বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, হাইলাকান্দি, ১৫ আগষ্টঃ সীমান্তবর্তী জেলা কাছাড়ে চোরাচালানকারীদের রুখতে আবারও বড়সড় সাফল্য পেল ধলাই থানার পুলিশ। গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এক নৈশ অভিযানে মেঘালয় থেকে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় তৈরি বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ বাহিনী। পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে মিজোরামে এই বিপুল মদের চালান পাচারের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনায় জব্দ করা হয়েছে পাচারে ব্যবহৃত একটি বড় ট্রাক এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে গাড়ির চালককে।
ধলাই থানা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ ইনচার্জের কাছে এক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে গোপন খবর আসে যে, আন্তঃরাজ্য সীমান্ত পার করে ছয় চাকার একটি বড় ট্রাকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদের কার্টুন মিজোরামের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্রই কোনো সময় নষ্ট না করে ধলাই থানার সামনে কৌশলগতভাবে একটি বিশেষ নাকা তল্লাশি পয়েন্ট বসায় পুলিশ। ধলাই থানার অফিসার ইনচার্জ শর্মেশ্বর কুয়োরের নেতৃত্বে পুলিশ দল ঘাপটি মেরে অপেক্ষা করতে থাকে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা নাগাদ সন্দেহভাজন ছয় চাকার ট্রাকটি (নম্বর: AS-01-LC-2625) নাকা পয়েন্টের কাছে এসে পৌঁছালে পুলিশ সদস্যরা সেটির গতি রোধ করেন।
গাড়িটি আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক আমতা আমতা করলেও পুলিশ তল্লাশি জোরদার করে। ট্রাকের ভেতর ভালো করে লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায় বিভিন্ন নামীদামী ব্র্যান্ডের মোট ৮০ কার্টুন ভারতীয় তৈরি বিদেশি মদ । উদ্ধার করা প্রতিটি মদের কার্টুনে ‘ওনলি ফর সেল ইন মেঘালয়’ লেবেল সাঁটানো ছিল। ঘটনাস্থল থেকেই বাজেয়াপ্ত করা হয় ট্রাকসহ পুরো মদের চালান। সেই সাথে আটক করা হয় চালককে। পরবর্তীতে কড়া জিজ্ঞাসাবাদের পর কাছাড় জেলার সোনাবাড়িঘাট এলাকার বাসিন্দা রিপন আহমেদ বড়ভূঁইয়া নামের ওই গাড়িচালককে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
ধলাই ও এর পার্শ্ববর্তী সীমান্ত অঞ্চলগুলো দিন দিন আন্তঃরাজ্য চোরাচালানের প্রধান রুট হয়ে উঠছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। মেঘালয় থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা মদ কীভাবে একের পর এক জেলার সীমান্ত পেরিয়ে ধলাই পর্যন্ত চলে এলো, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, এটি কেবল একজন সাধারণ চালকের কাজ নয়, এর পেছনে একটি সুসংগঠিত বিশাল আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে। মেঘালয়ের সস্তা মদ কাছাড়ের বুক চিরে মিজোরামের মতো ‘ড্রাই স্টেট’-এ (যেখানে মদ নিষিদ্ধ) চড়া দামে বিক্রি করার একটি বড় চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। প্রতিটি চেকপোস্ট বা নাকা পয়েন্ট পার হওয়ার ক্ষেত্রে কাদের মদদ ছিল, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া সমস্ত মদ ও ছয় চাকার গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট আইনে মামলা রুজু করেছে ধলাই থানা পুলিশ। ধলাই থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, ধৃত চালক রিপন আহমেদ বড়ভূঁইয়াকে হেফাজতে নিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। এই মদের আসল চালানদাতা কে, কার নির্দেশে এটি মিজোরামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এই চোরাচালানের সঙ্গে আর কোন কোন প্রভাবশালী নাম জড়িয়ে রয়েছে, তা বের করতে তদন্ত জোরকদমে চলছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।





