বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ মানবতার এক অপূর্ব বার্তা নিয়ে পবিত্র বিশ্বনবীর জন্মদিবসে এক ব্যতিক্রমী ও অনুকরণীয় সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করল উত্তর কৃষ্ণপুরের তরুণ প্রজন্মের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “হান্ড্রেড পার্সেন্ট সাক্ষরতা মিশন”। পুথিগত শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে সমাজ সংস্কার ও আর্তমানবতার সেবাকে ব্রত করে আজ দিনভর নানা কল্যাণমূলক কর্মসূচি পালন করে এই সংগঠনটি।
এলাকার অসহায় ও দুস্থ পরিবারগুলোকে আর্থিক ও সামগ্রিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মাঝে পুষ্টিকর ফলমূল বিতরণ করে তাঁরা স্থাপন করেছেন এক অনন্য মানবিক নজির। এদিন সকালে কর্মসূচির সূচনা হয় উত্তর কৃষ্ণপুর দ্বিতীয় খণ্ডের জামে মসজিদ মহল্লায়।
সেখানে সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ সদস্যরা উপস্থিত হয়ে এলাকার চরম আর্থিক সংকটে থাকা দরিদ্র পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা সামগ্রী ও আর্থিক সাহায্য তুলে দেন। দুস্থদের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে এই ছোট প্রয়াস এক গভীর আবেগপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি করে।
সহায়তা বিতরণের পর্ব শেষ করেই সংগঠনের সদস্যরা সোজা চলে যান কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অসহায় ও ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের শয্যাপাশে গিয়ে তাঁদের হাতে ফলমূলের প্যাকেট তুলে দেন তাঁরা। রোগীর প্রিয়জনদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি এই মহৎ উদ্যোগে হাসপাতালেও এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
সংগঠনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালের প্রশাসনিক আধিকারিক (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার) ড. দেবব্রত দত্ত ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “মানবসেবায় সমাজের প্রতিটি দায়িত্বশীল ও সামাজিক সংগঠনেরই এভাবেই বুক চিতিয়ে এগিয়ে আসা উচিত।
দিনের ব্যস্ত সামাজিক কর্মসূচির পর সন্ধ্যার প্রাক্কালে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে এক বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়। রাত আটটায় উত্তর কৃষ্ণপুরে বিশ্বনবীর শানে এক সুদৃশ্য ও জমজমাট ‘নাত-এ-রসুল’ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
নবীপ্রেমের সুষমায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সংগঠনের সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে ‘মিশন হান্ড্রেড পার্সেন্ট সাক্ষরতা’-র চিফ কনভেনার মহিবুর রহমান তালুকদার এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন,
সাক্ষরতাই হলো যেকোনো সমাজ ও জাতির আর্থিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য সমগ্র অঞ্চলকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে চিরতরে মুক্ত করা। এর অংশ হিসেবে আমরা আউলিয়া মসজিদ মহল্লার একটি ওয়ার্ডকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০ শতাংশ সাক্ষর করে তোলার টার্গেট নিয়ে কাজ শুরু করেছি। তিনি আরও জানান, কেবল শিক্ষা নয়, সমাজের সার্বিক উন্নয়নে তাঁরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানমূলক মোট ১৪ দফা বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।
এই রূপরেখার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো, দুস্থ ও এতিম শিশুদের জন্য অবৈতনিক বা বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। পুরো এলাকাকে সম্পূর্ণ ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা এবং বয়স্কদের জন্য শিক্ষার বিশেষ সুযোগ তৈরি করা। এলাকার দরিদ্র প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা। বেকার যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং গৃহভিত্তিক সঠিক পরিচিতির মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থদের চিহ্নিত করে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা।
এদিনের এই সর্বাঙ্গসুন্দর ও সফল অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে পরিচালনা করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সংগঠনের অন্যান্য কর্ণধারেরা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কনভেনার শাহানুর তালুকদার, আহমেদ দিলোয়ার লস্কর, শাহজাহান হোসেন চৌধুরী, জুনাইদ আহমেদ বড়ভূঁইয়া, ইফতিখার আলম বড়ভূঁইয়া প্রমুখ।
‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট সাক্ষরতা মিশন’-এর এই বহুমুখী ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ উত্তর কৃষ্ণপুর তথা পুরো শিলচর অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করেছে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এমন সুন্দর বহিঃপ্রকাশ আগামী দিনে এক সুস্থ ও আলোকিত সমাজ গঠনে আলো দেখাবে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।






