নিরাপত্তা চাই, ন্যায়বিচার চাই ১,৫০০ শিক্ষার্থীর কণ্ঠে প্রতিবাদ, রাতাবাড়ি থানায় স্মারকলিপি
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৬ আগষ্টঃ হাইলাকান্দি এবং শ্রীভূমি জেলার রাতাবাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে গোটা বরাক উপত্যকায় যে উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা গেল ছাত্রসমাজের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবিতে ইউনাইটেড স্টুডেন্টস অব বরাক (ইউএসবি)-এর উদ্যোগে ১,৫০০-রও বেশি শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি রাতাবাড়ি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের দাবি, বরাক উপত্যকায় ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে এই প্রথম এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সংগ্রহ করে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হলো। এই উদ্যোগ শুধু একটি স্মারকলিপি নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং নিরাপদ সমাজ গড়ার প্রত্যাশার প্রতিফলন। স্মারকলিপিতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল বৃদ্ধি, অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ, জনসচেতনতা কর্মসূচি জোরদার, আইন দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
ইউএসবি-র প্রতিনিধিরা জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির পর বহু পরিবার, বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাঁদের কন্যাসন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত থেকে শুরু করে দৈনন্দিন চলাফেরা সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংগঠনের মতে, এমন পরিস্থিতি কোনও সভ্য সমাজের জন্য কাম্য হতে পারে না। প্রতিটি নারী ও শিশুর নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও ভয়মুক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকার অধিকার সংবিধান ও মানবাধিকারের মৌলিক চেতনার সঙ্গে যুক্ত।
স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য প্রশাসনকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ, সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউএসবি স্পষ্ট করেছে, তাদের এই কর্মসূচি কোনও ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং আইনসম্মত একটি সামাজিক উদ্যোগ, যার একমাত্র উদ্দেশ্য নারী, শিশু এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
সংগঠনের মতে, অপরাধ দমনে শুধু পুলিশের ভূমিকা যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ সকলের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। পাশাপাশি সমাজে নারী ও শিশুদের প্রতি সম্মান, সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপরও তারা গুরুত্ব আরোপ করেছে। ১,৫০০-রও বেশি শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত এই স্মারকলিপি নিঃসন্দেহে বরাক উপত্যকার তরুণ প্রজন্মের একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা বহন করছে। এখন নজর প্রশাসনের দিকে এই দাবিগুলির পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, সেটাই দেখার বিষয়।






