বন্যা-দুর্যোগের পর অসমে পুনর্গঠনের প্রস্তুতি, দিল্লিতে হিমন্তের তৎপরতা

বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, অসমের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বরাবরই সহানুভূতিশীল। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত মূল্যায়ন চলছে। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সহায়তা প্রদান এবং তাদের জীবিকা ফেরানোর লক্ষ্যে পরবর্তী পর্যায়ের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রাজ্য সরকার তৈরি করছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, গবাদি পশু ও আয়ের উৎস হারিয়েছে, তাদের পুনরুদ্ধারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

হিমন্তের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অসমের উদ্বেগ ও প্রয়োজনীয়তাগুলি অত্যন্ত গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে শুনেছেন। তিনি অসমের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের জন্য অর্থমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান। সাম্প্রতিক বন্যায় বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর, চরাইদেও এবং যোরহাট সহ বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে পুনর্বাসন, পুনর্গঠন এবং জীবিকা পুনরুদ্ধারের কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্যার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষা, ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য শক্তিমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর সঙ্গেও বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠককে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়ন, খাদ্য ও গণবণ্টন ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার নিয়ে অসমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। রাজ্যের স্বার্থে ইতিবাচক মনোভাব ও সহযোগিতার জন্য প্রহ্লাদ যোশীকেও ধন্যবাদ জানান হিমন্ত।

অন্যদিকে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ। তিনি প্রতিটি বন্যাকবলিত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অখিল উল্লেখ করেন, বন্যায় বহু পরিবারের বাড়িঘর, কৃষিজমি, গবাদি পশু এবং জীবিকার উৎস ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি, এবারের বন্যা পরিস্থিতির কারণ নিয়েও বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অখিল গগৈ। তাঁর অভিযোগ, কয়লা ও পাথর উত্তোলনের মতো কিছু কার্যকলাপ বন্যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

ফলে একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরে কেন্দ্রের কাছে অসমের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের বিষয়টি তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তার দাবি, দুই ক্ষেত্রেই বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার এখন রাজ্যের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

Related Posts

শ্রীভূমিতে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের এককালীন উন্নয়ন প্রকল্পের ভূমিপূজন, দুর্গাপূজার পরই শুরু হচ্ছে সড়ক নির্মাণকাজ

অনুষ্ঠানে সীমান্ত বাণিজ্য ও আন্তঃরাজ্য যোগাযোগব্যবস্থা সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শ্রীভুমি ২২ আগষ্টঃ ব্রডগেজ বাস্তবায়নের মাধ‍্যমে রেলপথে দেশের অন‍্যান‍্য প্রান্তের সঙ্গে যেমন বরাক…

সিএএ প্রক্রিয়ায় গতি আনতে কেন্দ্রের ঐতিহাসিক সিটিজেনশিপ থার্ড অ্যামেন্ডমেন্ট রুলস, ২০২৬ কার্যকর

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২২ আগষ্টঃ প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অমুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়ায় এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *