শ্রীভূমির গোবিন্দপুর গ্রামের বলাই নমঃশূদ্রকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ পরিবারের
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩১ আগষ্টঃ কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতের গোবিন্দপুর গ্রাম। স্থানীয় যুবক বলাই নমঃশূদ্র প্রতিদিনের মতোই বৃহস্পতিবার সকালে সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি। দিনভর নিখোঁজ থাকার পর শেষমেশ তাঁর খোঁজ পাওয়া যায় ঠিকই, তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র বলাই নমঃশূদ্রের বিরুদ্ধে রীতিমতো অস্ত্র ও মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বলাইয়ের স্ত্রীর দাবি, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। স্বামীকে দেশে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
শ্রীভূমি জেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ৩৫ বছরের বলাই নমঃশূদ্র। গ্রামটি ভারতীয় ভূখণ্ডে হলেও কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে, যাকে ‘জিরো পয়েন্ট’ বলা হয়। পেশায় মৎস্যজীবী বলাইয়ের স্ত্রী মমতা নমঃশূদ্রের কথায়, বুধবার সন্ধ্যায় সীমান্তের কাছে পিলারের পাশে জাল পেতে এসেছিলেন তাঁর স্বামী।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ সেই জাল থেকে মাছ আনতেই ফের সেখানে যান। সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসে। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও মানুষটা না ফেরায় আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। সন্ধ্যায় শ্রীভূমি সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করি।
পরে জানতে পারি তাঁকে বাংলাদেশে পাওয়া গিয়েছে। তবে এর মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন মমতা। তিনি জানান, বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। বলাইয়ের ভোটার পরিচয় পুর আধার কার্ড নম্বর হলে পাসপোর্টের প্রতিলিপি চাওয়া হয়। মমতা বলেন, ওই ব্যক্তি বলেছিলেন, বলাই অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ায় ধরা পড়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের পর তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
সেই জন্যই নথিগুলো চাওয়া হয়েছিল। আমি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিই। কিন্তু নথি পাঠানোর পরও বলাইয়ের কোনও খোঁজ মেলেনি। যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, সেখানে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি মমতা। পরে গ্রামের কাছের লাতু পুলিশ আউটপোস্টে গেলে তাঁকে সদর থানায় যেতে বলা হয়। তিনি পুলিশের কাছে সব জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, শুক্রবার নিজেদের সামাজিকমাধ্যমে বলাইকে গ্রেফতারের কথা জানিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে বিজিবি। তাদের বক্তব্য, ২৭ আগস্ট রাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কুমারশাইল সীমান্তে ভারতীয় একটি চোরাকারবারি দলের সঙ্গে বিজিবির গুলির লড়াই হয়। সেই অভিযানে একজন ভারতীয় চোরাকারবারিকে আটক করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড ২২ বোরের গুলি এবং ৫০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ দল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুমারশাইল এলাকায় অবস্থান নেয়। ভারতীয় একটি চোরাকারবারি দল ওই এলাকা দিয়ে অস্ত্র ও মাদকের চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসবে বলে খবর ছিল। দলটি এলাকায় পৌঁছলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। তখন চোরাকারবারিরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ফায়ার করলে চোরাকারবারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে একজন ভারতীয় চোরাকারবারীকে আটক করতে সক্ষম হন।’ বলাইয়ের কাছ থেকেই ওই অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজিবি। তাদের বয়ান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তি সীমান্তবর্তী চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদক বাংলাদেশে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ভারত থেকে আনা হয়েছিল।
অন্যদিকে রবিবার শ্রীভূমির সিনিয়র পুলিশ সুপার লীনা দোলে জানান বলাই নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ এলাকায় গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এলাকাটি কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে হওয়ায় বিএসএফের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে। বলেন, একাধিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং আমাদের শীর্ষ আধিকারিকরাও এর সঙ্গে যুক্ত।
যেহেতু নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য বাংলাদেশের সামাজিকমাধ্যম থেকে সামনে এসেছে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বলাই নমদূশ্র কিভাবে বাংলাদেশ ছুটে গেলেন, ঘটনার পিছনে অন্য কারণ রয়েছে কি না, সেসব তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জেলাআয়ুক্ত প্রদীপ কুমার দ্বিবেদীকে লিখিতভাবে সবকিছু জানিয়েছেন। উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে সব অবগত করা হবে বলে জানান এসএসপি লীনা দোলে।






