বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৬ আগষ্টঃ দীর্ঘ ২৫ বছরের সফল ও গৌরবময় পথচলার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে শিলচরের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘সৃষ্টি’। শিল্প-সংস্কৃতির আলোয় সমাজকে সমৃদ্ধ করার রজতজয়ন্তী বর্ষের এই বর্ণাঢ্য অভিযাত্রার সমাপ্তি হতে চলেছে আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট।
দুই দিনব্যাপী এই মহাঅনুষ্ঠানের বিস্তারিত কর্মসূচি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে মঙ্গলবার শিলচরের দাস কলোনিতে অবস্থিত সৃষ্টির নিজস্ব কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংস্থার কর্ণধার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে এই সম্মেলন ঘিরে ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে রজতজয়ন্তী বর্ষের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদিকা মৌমিতা বিশ্বাস। তিনি জানান, আগামী ২৯ আগস্ট সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ছয়জন কীর্তিমান বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘সৃষ্টি সম্মান’ প্রদান করা হবে। এদিনের সংবর্ধনা প্রাপকদের তালিকায় অত্যন্ত সসম্মানে স্থান পেয়েছেন নিখিল পাল, নন্দিনী চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী, চন্দ্রিমা দত্ত, অমিত শিকদার এবং চিত্রভানু ভৌমিক।
সংবর্ধনা পর্বের পাশাপাশি প্রথম দিনের আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক পর্বে দর্শকদের মুগ্ধ করতে শিলচরে আসছেন গুয়াহাটির প্রখ্যাত কথক নৃত্যশিল্পী বিপুল চন্দ্র দাস। তাঁর সুনিপুণ নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩০ আগস্টের সমাপনী দিনের আকর্ষণ আরও বহুগুণ বেশি। রজতজয়ন্তী বর্ষের বিভিন্ন কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে পূর্বে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্লাব ও সংস্থাকে ওই দিন বিশেষভাবে সম্মানিত করা হবে।
সাংস্কৃতিক আয়োজনের মুকুটে নতুন পালক যোগ করতে ৩০ আগস্ট মঞ্চস্থ হবে একাধিক নাটক। এদিন আয়োজক সংস্থা ‘সৃষ্টি’-র নিজস্ব প্রযোজনায় একটি সুদৃশ্য নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার পাশাপাশি, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে চন্দননগরের সুপরিচিত নাট্যদল ‘না নাটক’-এর পরিবেশনা বিশেষ মাত্রা যোগ করবে। কলকাতার বা বহিঃরাজ্যের সাংস্কৃতিক দলগুলিকে শিলচরের মাটিতে এনে নাটক মঞ্চস্থ করার এই অভিনব উদ্যোগ বরাক উপত্যকার নাট্যামোদী দর্শকদের দারুণ খোরাক জোগাবে বলে বিশ্বাস আয়োজকদের।
সাংবাদিক সম্মেলনে রজতজয়ন্তী বর্ষ উদ্যাপন কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা নিখিল পাল আবেগঘন কণ্ঠে সৃষ্টির ২৫ বছরের বর্ণাঢ্য পথচলা ও কর্মকাণ্ডের ইতিহাস স্মরণ করেন। তিনি বলেন, গত আড়াই দশক ধরে সৃষ্টি কেবল একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এই ঐতিহাসিক সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকার বিনীত আহ্বান জানান তিনি।
উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ড. বিশ্বতোষ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদিকা মৌমিতা বিশ্বাস ও সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি কর্মীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রতিকূলতাকে জয় করে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সংস্কৃতির প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। অন্যদিকে, বিশিষ্ট সংগঠক দীপক সেনগুপ্ত আশাপ্রকাশ করেন যে, বরাক উপত্যকার আপামর জনসাধারণ এই মহোৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হবেন। তিনি জানান, রজতজয়ন্তী বর্ষের এই স্মৃতির দিনগুলিকে চিরস্থায়ী করে রাখতে একটি আকর্ষক স্মরণিকাও প্রকাশ করা হবে।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৌতুসী বিশ্বাস, গৌরা চক্রবর্তী, পন্না পাল, কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী, সুদীপ সাহা, শ্যামলী চৌধুরী, মিনাক্ষী দাসসহ সৃষ্টির অন্যান্য নিবেদিতপ্রাণ সদস্য ও কর্মকর্তাবৃন্দ। আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট শিলচরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন যে এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। সৃষ্টির ২৫ বছরের এই রজতজয়ন্তী সমাপ্তি অনুষ্ঠানকে সফল ও সার্থক করে তুলতে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আয়োজকরা।






