হাইলাকান্দিতে ঈদে মিলাদুন্নবীতে সুবিশাল ‘শান্তির মহামিছিল’, সমাজ থেকে অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বয়কটের কড়া বার্তা আল্লামা সারিমুল হক লস্করের

মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে এবং প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিদগ্ধ পন্ডিত, উত্তর পূর্বাঞ্চল আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মুখ্য উপদেষ্টা আল্লামা সারিমুল হক লস্কর স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, আমরা শান্তি চাই এবং শান্তির পথেই চলব। যারা সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে, তারা কখনো প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না।

এদিন সকালে অনুষ্ঠানসূচির শুভ সূচনা হয় উত্তর পূর্বাঞ্চল আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের জেলা কার্যালয়ে। সেখানে সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা হজরত আল্লামা সারিমুল হক লস্কর সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর শহরের প্রাণকেন্দ্র লালা রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত ‘শান্তির মহামিছিল’।

মুখে দরুদ ও সালামের জপ এবং হাতে শান্তির বার্তা সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে হাজার হাজার মানুষ এই মিছিলে পা মেলান। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি করে।

মিছিল চলাকালীন ও কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে আল্লামা সারিমুল হক লস্কর বিশ্বনবীর জীবনাদর্শ ও তাঁর প্রদর্শিত শান্তির পথের ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বিশ্বনবীর শুভ জন্ম দিনকে আমরা বিশ্ব শান্তি দিবস হিসেবে গ্রহণ করেছি। নবী করিম (সাঃ) সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন।

ইসলাম কখনো হিংসা বা অশান্তি সমর্থন করে না। যারা সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে, বিশৃঙ্খলা ছড়ায়, তারা ইসলামের নীতি থেকে বিচ্যুত এবং তারা কখনোই প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না। উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজে শান্তি ও পারস্পরিক সম্প্রীতিকে আরও মজবুত করা। সকলকে বিশ্বনবীর আদর্শ ও সুন্নাহ মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

শহরের রাজপথ পরিক্রমা শেষে সুবিশাল এই মহামিছিল ঐতিহাসিক কাছারি মসজিদ প্রাঙ্গণে এসে সমাপ্ত হয়। সেখানে জমায়েত হওয়া সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। পরিশেষে সমগ্র বিশ্বজুড়ে শান্তি, কল্যাণ ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হজরত আল্লামা ছারিমুল হক লস্কর। এই মোনাজাতে দেশ ও দশের উন্নতি এবং সম্প্রীতির জন্য দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের জেলা স্তরের সমস্ত শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কেবলমাত্র এই মহামিছিলই নয়, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে গোটা হাইলাকান্দি জেলা জুড়েই উৎসবের আবহাওয়া পরিলক্ষিত হয়। বিভিন্ন স্থানে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, কুইজ, কিরাত ও রচনা প্রতিযোগিতার মতো নানান শিক্ষামূলক ও ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিশ্বনবীর শিক্ষাকে ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

Related Posts

প্রাচীন পুঁথি সংরক্ষণে গুরুত্ব মুখ্যমন্ত্রীর, শিবসাগরে বন্যার সমীক্ষা ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন, ক্ষতিগ্রস্ত ৪২,৫০০টি বাড়ি চিহ্নিত

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ জুলাইর ভয়াবহ বন্যার পর শিবসাগর জেলায় শুরু হওয়া দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন সমীক্ষার প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চলা এই সমীক্ষায়…

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও উজান অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শ্রীভূমি জেলা কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে সিপিআই(এম)-এর তীব্র বিক্ষোভ

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, খাদ্যদ্রব্যের সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং উজান আসামের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, রেশনে বিনামূল্যে ছয় মাস খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, এনরেগায় দুইশো…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *