শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. ভাস্কর গুপ্ত ও তাঁর স্ত্রীকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ জুলাইঃ শিলচরের বহুল আলোচিত স্পা-কাণ্ডের তদন্তে এবার নতুন মোড়। তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে শিলচরের সিনিয়র পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তলব করে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (এসএমসিএইচ) অধ্যক্ষ ডা. ভাস্কর গুপ্ত এবং তাঁর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা গুপ্তকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের স্বার্থেই তাঁদের ডেকে একাধিক বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যদিও জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়বস্তু নিয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হয়নি। প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন শিলচর শহরের ক্লাব রোড এলাকার একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে অবস্থিত লাভলী ও ‘লোটাস’নামে দুটি স্পা-তে অভিযান চালিয়ে দেহব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে ২৮ জন যুবতীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা বরাক উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার হওয়া যুবতীরা জামিনে মুক্তি পান। তবে তদন্ত থেমে থাকেনি, বরং প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ‘লোটাস’স্পা যে কক্ষে পরিচালিত হচ্ছিল, সেই কক্ষটির মালিক ডা. ভাস্কর গুপ্তের পরিবারের সদস্যরা। রোহিত দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি ওই কক্ষ ভাড়া নিয়ে স্পা ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ সম্পত্তির মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এবং বুধবার অধ্যক্ষ ও তাঁর স্ত্রীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তকারীরা মূলত ভাড়ার চুক্তি, স্পা পরিচালনার তথ্য, ভাড়াটিয়ার পরিচয় এবং মালিকপক্ষের জ্ঞাতসারে কী ধরনের কার্যকলাপ সেখানে চলত, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডা. গুপ্ত ও তাঁর স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়নি। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক শুধু বলেন, স্পা-কাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে, তাই এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।
জিজ্ঞাসাবাদের পর ডা. ভাস্কর গুপ্তের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, এর আগেও ‘লোটাস’স্পা পরিচালিত হওয়া ঘরের মালিকপক্ষের অন্য সদস্যদেরও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। ফলে তদন্তকারীরা শুধুমাত্র স্পা পরিচালনাকারীদের নয়, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিক, ভাড়াটিয়া এবং সম্ভাব্য অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।






