শিলচরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল ‘অসম সচিবালয়, বরাক উপত্যকা

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে বরাক উপত্যকার সাধারণ মানুষকে আর ছোটখাটো প্রশাসনিক কাজের জন্য গুয়াহাটিমুখী হতে হবে না। শিলচরের সম্পূর্ণ কার্যকরী এই সচিবালয় চত্বর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা রাজ্য সরকারের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা অত্যন্ত সহজে ও দ্রুততার সাথে লাভ করতে পারবেন। রাজ্য সরকারের মোট ৫৯টি প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে ৩২টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কাজকর্ম এখন থেকে সরাসরি ‘অসম সচিবালয়, বরাক উপত্যকা’ শাখা থেকে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট নীতিনির্দেশিকা ও রূপরেখা প্রস্তুত করেছে।

গত ২১ আগস্ট রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে সমগ্র উপত্যকায় কার্যকর হয়েছে। শিলচরের এই প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে যেসকল গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কাজকর্ম চালনা করা হবে, সেগুলির তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো, স্থানীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন। উচ্চশিক্ষা, বিদ্যালয় শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। জনপূর্ত, জলসম্পদ, শক্তি (বিদ্যুৎ), এবং গৃহ ও নগর পরিক্রমা বিভাগ। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, কৃষি এবং রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। পরিবহণ, খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ এবং পরিবেশ ও বন বিভাগ।

বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মধ্যে প্রশাসনিক ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার যে ধারাবাহিক উদ্যোগ নিচ্ছিল, এই সিদ্ধান্ত তারই এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্য, বরাক উপত্যকার আমাদের মানুষজন এখন থেকে শিলচরের সম্পূর্ণ কার্যকরী অসম সচিবালয় চত্বরে তাঁদের সমস্ত সরকারি পরিষেবা অত্যন্ত সহজে লাভ করতে সক্ষম হবেন। বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমবিকাশ নিশ্চিত করার জন্য আমরা যে বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, এটি তার মধ্যে কেবল একটি সূচনা।

দীর্ঘদিন ধরে বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের যেকোনো প্রশাসনিক জটিলতা বা সচিবালয় সংক্রান্ত কাজের জন্য ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে রাজ্য রাজধানী দিশপুরে যেতে হতো। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ উভয়েরই চরম অপচয় ঘটত। শিলচরে সম্পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী এই ‘অসম সচিবালয়, বরাক উপত্যকা’ সক্রিয় হওয়ার ফলে, প্রশাসনিক কাজের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

সাধারণ নাগরিক ও সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর হবে। উপত্যকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির তদারকি সরাসরি স্থানীয় স্তর থেকেই সম্ভব হবে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখছেন সচেতন মহল।

Related Posts

ছত্তিশগড়ের রাজ্যপাল রমেন ডেকাকে নিয়ে আপত্তিকর কার্টুন ও পোস্ট শেয়ার করার ঘটনায় হাই কোর্টের বিশেষ রায়

সাংবিধানিক পদের অবমাননা মামলা: নিঃশর্ত ক্ষমা ও কড়া শর্তে স্বস্তি পেলেন দুই যুবক বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৬ আগষ্টঃ ছত্তিশগড়ের রাজ্যপাল রমেন ডেকাকে নিয়ে আপত্তিকর কার্টুন ও মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ…

সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি কংগ্রেসের, গৌহাটি হাইকোর্টে ফিরল মামলা, আইনি সুতোয় ঝুলছে বিজেপি সাংসদ কৃপানাথ মাল্লার ভাগ্য!

১৮ হাজার ভোটের জয় নিয়ে এবার আইনি আতশিকাঁচের নিচে বিজেপি সাংসদ বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৬ আগষ্টঃ করিমগঞ্জ (বর্তমান শ্রীভূমি) লোকসভা কেন্দ্রের ২০২৪ সালের নির্বাচনী লড়াই কি তবে শেষ হয়েও শেষ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *