দুই প্রাক্তন ট্রাস্টি বিতর্কের কেন্দ্রে থাকলেও চূড়ান্ত রিপোর্টে তাঁদের নাম নেই, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফের নজরে তদন্ত
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৯ আগষ্টঃ অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া চাঁদার অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে কথিত চুরি ও আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তের জট খুলতে শুরু করলেও বিতর্ক পুরোপুরি থামছে না। উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর রিপোর্টটি খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য তা শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের হাতে তুলে দিয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, এসআইটির চূড়ান্ত রিপোর্টে ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় এবং ট্রাস্টের আর এক সদস্য অনিল মিশ্রের নাম নেই। ফলে মামলায় যাঁদের ঘিরে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তাঁদের নাম চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টে না থাকাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মন্দিরের চাঁদার অর্থে কথিত অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর চম্পত রায় ও অনিল মিশ্রকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়। জানা গেছে, পরবর্তী সময়ে দু’জনই নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
তবে এসআইটির চূড়ান্ত রিপোর্টে তাঁদের নাম না থাকায় তদন্তের পরিধি ও অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদিও রিপোর্টে তাঁদের নাম না থাকার অর্থ তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আদালত বা অন্য কোনও কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়া নয়, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। চম্পত রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। ‘দ্য ওয়্যার’এর পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত ২০১৮ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নির্বাচনের সময়ও দেখা গিয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে রায় ‘আনুগত্যের পরীক্ষা’য় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। তাঁকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক সভাপতি এবং রাম জন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ অশোক সিঙ্ঘলের ঘনিষ্ঠ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআইটির চূড়ান্ত রিপোর্ট সামনে আসার মধ্যেই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টেও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১৭ আগস্ট ২০২৬ শীর্ষ আদালত এসআইটিকে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভক্তদের দান করা অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কথিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের আদালতের নজরদারিতে তদন্ত চেয়ে দায়ের করা একাধিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আবেদনকারী বা অন্য কোনও প্রকৃত জনস্বার্থে আগ্রহী ব্যক্তি তদন্তের এমন দিকগুলি সম্পর্কে সলিসিটর জেনারেলের দপ্তরে পরামর্শ দিতে পারবেন, যেগুলি এসআইটির আরও বিশদে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন। সেই পরামর্শ এসআইটির কাছে পাঠানো হবে এবং সেগুলি নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করা হবে।
রাম মন্দিরের চাঁদার অর্থ নিয়ে বিতর্ক প্রথম প্রকাশ্যে আসে ৭ জুন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে উত্তরপ্রদেশ সরকার ১৩ জুন বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করে। এরপর তদন্ত এগোতে থাকে। ২৬ জুন মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি এবং আত্মসাতের অভিযোগে আট জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। এসআইটির প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে মন্দিরে চাঁদার অর্থ গণনার সঙ্গে যুক্ত আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এসআইটির চূড়ান্ত রিপোর্ট রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পর্যালোচনার পর ট্রাস্টের হাতে পৌঁছেছে। কিন্তু একই সময়ে সুপ্রিম কোর্ট এসআইটির কাছে স্ট্যাটাস রিপোর্ট চেয়েছে। ফলে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়লেও মামলার আইনি পরিণতি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। চম্পত রায় ও অনিল মিশ্রের নাম চূড়ান্ত রিপোর্টে না থাকা, আট জনের বিরুদ্ধে এফআইআর ও গ্রেফতার এবং সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের অগ্রগতি সব মিলিয়ে রাম মন্দিরের চাঁদার অর্থ নিয়ে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। এখন নজর একদিকে এসআইটির চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ট্রাস্ট কী পদক্ষেপ নেয়, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়তে চলা স্ট্যাটাস রিপোর্টে তদন্তের কোন কোন দিক উঠে আসে।





