স্কুলপড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকির আশঙ্কায় কঠোর পদক্ষেপ, সব অনলাইন-অফলাইন মাধ্যমে বিক্রি ও বিতরণে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলং, ১৫ আগষ্টঃ স্কুলপড়ুয়া থেকে তরুণ প্রজন্ম যাদের হাতে প্রতিনিয়ত শোভা পেত চকচকে লাল রঙের অতি পরিচিত পানীয়টি, সেই ‘STING’ (স্টিং) এনার্জি ড্রিঙ্কের ওপর নেমে এলো মেঘালয় সরকারের কড়া নিষেধাজ্ঞা। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত মারাত্মক উদ্বেগ এবং খাদ্য সুরক্ষা আইনের একাধিক লেবেলিং বিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগে সমগ্র রাজ্যজুড়ে পণ্যটির বিক্রি, প্রদর্শন, মজুত ও বিতরণের ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারি করল রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর।
১৪ আগস্ট (২০২৬) মেঘালয় সরকারের খাদ্য সুরক্ষা কমিশনারেটের পক্ষ থেকে এই মর্মে একটি অত্যন্ত কঠোর ও অভূতপূর্ব বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগারে সংগৃহীত নমুনার চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এই নিষেধাজ্ঞা পূর্ণাঙ্গভাবে বলবৎ থাকবে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে জনপ্রিয় এই এনার্জি ড্রিঙ্কটির বিরুদ্ধে জনস্বার্থে একাধিক অভিযোগ ও লিখিত আবেদন জমা পড়ে। অভিযোগগুলিতে মূলত তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রথমত, উচ্চমাত্রায় ক্যাফেইনের উপস্থিতি অভিযোগকারীদের দাবি, পানীয়টিতে থাকা ক্যাফেইনের মাত্রা বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, সন্দেহজনক উপাদানের ব্যবহার পানীয়টিতে ব্যবহৃত কিছু উপাদান নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তৃতীয়ত, প্যাকেজিং ও লেবেলিং সংক্রান্ত অনিয়ম, অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, পণ্যটির প্যাকেজিং ও লেবেলে ২০০৬ সালের খাদ্য সুরক্ষা ও মানদণ্ড আইনের (FSSA) নির্ধারিত বাধ্যতামূলক তথ্য ও লেবেলিং সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে মানা হয়নি। এই অভিযোগগুলির গুরুত্ব বিবেচনা করেই খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর পণ্যটির নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল কোমল পানীয়টির অবাধ বিকিকিনি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের সীমানার আশেপাশে এবং খুচরো দোকানগুলিতে শিশু ও কিশোরদের লক্ষ্য করে যেভাবে এর বিপণন চলছিল, তাতে প্রশাসনিক উদ্বেগের পারদ চরমে ওঠে।
মেঘালয়ের খাদ্য সুরক্ষা কমিশনার ড. জোরাম বেদা (IAS), ২০০৬ সালের খাদ্য সুরক্ষা ও মানদণ্ড আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অর্পিত ক্ষমতাবলে এই নজিরবিহীন নির্দেশ জারি করেছেন। আদেশে বলা হয়েছে, প্রস্তুতকারক, পরিবেশক, পাইকারি ও খুচরো বিক্রেতা, ছোট ভেন্ডর এমনকি আধুনিক ই-কমার্স ও অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলিকেও অবিলম্বে এই পণ্য বেচাকেনা ও বিপণন বন্ধ করতে হবে।
যেকোনো ধরনের অসাধু পদক্ষেপ রুখতে নির্দেশিকায় সুস্পষ্ট কিছু নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যেসব ব্যবসায়ীর কাছে ইতিমধ্যেই স্টিং-এর স্টক রয়েছে, তা অবিলম্বে ব্যবসার অন্যান্য সামগ্রী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখতে হবে। প্রশাসনের লিখিত অনুমতি ছাড়া এই মজুত পণ্য অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া, বিক্রি করা বা নষ্ট করে ফেলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যদি কোনো ব্যবসায়ী জেনেশুনে বা অলক্ষ্যে এই আদেশ অমান্য করে পণ্য সরানোর চেষ্টা করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে খাদ্যের নিরাপত্তাজনিত ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে বাজার থেকে স্টিং এর নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষার বিশদ বিশ্লেষণ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সার্বিক পরিস্থিতি পুনঃপর্যালোচনা করা হবে এবং তার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ল্যাব রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মেঘালয়ের কোনো প্রান্তেই এই ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়টির বিক্রি বা লেনদেন সম্পূর্ণ আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সরকারের এই সময়োপযোগী ও কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের সচেতন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজ।





