বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৩ আগষ্টঃ বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদোৎসবের আর মাত্র কিছুদিন বাকি। উৎসবের দিনগুলিতে নিজেকে নতুন সাজে সাজিয়ে তুলতে এখন থেকেই শহরের বিপণি কেন্দ্রগুলিতে ভিড় জমাচ্ছেন ফ্যাশনপ্রেমীরা। ঠিক এই আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলতে এবং স্থানীয় কারুশিল্পকে নতুন মাত্রা দিতে রাঙ্গিরখাড়ির ‘হোটেল বিভা’-তে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো আর.আর ফ্যাশনের বিশেষ ফ্যাশনমুখী প্রদর্শনী ও হস্তশিল্প মেলা। ২২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই তিন দিনব্যাপী মেলা চলবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত, প্রতিদিন সকাল ১০:৩০টা থেকে রাত ৯:৩০টা পর্যন্ত।
শনিবার দুপুরে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে এবং ঐতিহ্যবাহী পঞ্চ প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী স্বর্ণালী চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, উৎসবের ঠিক প্রাক্কালে স্থানীয় স্বনির্ভর নারী উদ্যোক্তাদের এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম দেওয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। হস্তশিল্পের প্রসারে ও নারী ক্ষমতায়নে এমন আয়োজন শহরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতি উভয়কেই সমৃদ্ধ করবে।
মেলার মূল আকর্ষণ বরাক উপত্যকার প্রায় ২০ জন প্রতিভাবান নারী উদ্যোক্তার নিজস্ব তৈরি পণ্যের বিশাল সম্ভার। প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে নান্দনিক পরিবেশবান্ধব হ্যান্ডমেড ব্যাগ, চোখধাঁধানো ও সুবাসিত মোমবাতি, প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি আধুনিক ব্রেসলেট ও আংটি, ট্রেন্ডি ডিজিটাল ও ডিজাইনার পোশাক, উৎসবের উপযোগি ঐতিহ্যবাহী শাড়ি এবং সম্পূর্ণ অর্গানিক উপাদানে তৈরি প্রসাধনী।
শহরের ক্রেতাদের কাছে এই সমস্ত রুচিশীল ও স্থানীয় পণ্য সরাসরি পৌঁছে দেওয়াই মেলার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। উৎসবের কেনাকাটাকে আরও আনন্দদায়ক করতে আয়োজক সংস্থা আর.আর ফ্যাশনের পক্ষ থেকে কেনাকাটায় বিশেষ মূল্যছাড় ও উপহারের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কেনাকাটা করার পাশাপাশি ক্রেতাদের জন্য থাকছে ‘বিনামূল্যে বিশেষ আকর্ষণীয় উপহার’ জেতার সুবর্ণ সুযোগ।
মেলায় অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তারা জানান, বড় বড় শপিং মল বা ব্র্যান্ডের ভিড়ে স্থানীয় হস্তশিল্পীদের কাজ অনেক সময় ঢাকা পড়ে যায়। এই ধরনের মেলা মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে নিজেদের তৈরি পণ্য তুলে ধরার সেরা মাধ্যম। এতে শুধু কারুশিল্পীরাই আর্থিক সুবিধা পান না, বরং ক্রেতারাও সাশ্রয়ী মূল্যে এক্সক্লুসিভ কালেকশন কেনাকাটার সুযোগ পান।
এদিনের উদ্বোধনী ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে আর.আর ফ্যাশনের পরিচালকমণ্ডলী ও উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। আয়োজকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঋদ্ধি দে, মীনাক্ষী পাল, অর্পিতা দেবাশীষ, নবনীতা দত্ত সেনগুপ্ত, নুরিন নাহার বড়ভূঁইয়া, শিপ্রা দাস, সঙ্গীতা ভট্টাচার্য, সুইটি পাল, মঞ্জুরি দেব ও অনিতা রায় প্রমুখ। প্রথম দিন থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। আগামী দু’দিনে ছুটির আমেজে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়বে এবং মেলাটি অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করবে বলে শতভাগ আশাবাদী আয়োজক সংস্থা।





