দক্ষিণ করিমগঞ্জের আঙ্গুরার মক্কারগোলে ক্ষেতের জমি থেকে অজ্ঞাত মহিলার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার, রহস্য ঘনীভূত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত আঙ্গুরা জিপির ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মক্কারগোল এলাকায় স্থানীয়রা ক্ষেতের জমিতে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হলেও কাছে গিয়ে মরদেহ দেখতে পাওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় বারইগ্রাম ও পাথারকান্দি পুলিশের দল। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নিলামবাজার সার্কেলের আধিকারিকও। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে উদ্ধার হওয়া ওই মহিলার পরিচয় এখনও পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বয়স, বাড়ি কোথায় এবং কীভাবে তিনি মক্কারগোলের ওই ক্ষেতের জমিতে এসে পৌঁছালেন, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ওই মহিলার মৃত্যু কীভাবে হল? এটি কি নিছক কোনো দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? অন্য কোথাও মহিলাকে হত্যা করার পর তাঁর মরদেহ মক্কারগোলের নির্জন ক্ষেতের জমিতে এনে ফেলে রাখা হয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না স্থানীয়রা। তবে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, মহিলাকে অন্যত্র হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তাঁর মরদেহ এখানে এনে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। মরদেহের অবস্থা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও এসবই আপাতত অনুমান; ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে পুলিশের তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট।

পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। মৃত মহিলার পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি তিনি কীভাবে মারা গেলেন, মৃত্যুর আগে তিনি কোথায় ছিলেন এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও যোগসূত্র রয়েছে কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারিছড়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা অঞ্চলে এখনও উত্তেজনা ও আতঙ্কের আবহ রয়েছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ করিমগঞ্জের আঙ্গুরা জিপির মক্কারগোল এলাকায় ফের এক অজ্ঞাত মহিলার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মহিলার পরিচয় শনাক্ত করা গেলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এই ঘটনায় আপাতত একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশকে এই মহিলা?

কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল? তিনি মক্কারগোলে কীভাবে এলেন? নাকি অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহ এখানে এনে ফেলে রাখা হয়েছিল? সব প্রশ্নের উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে। তদন্ত যত এগোবে, ততই সামনে আসবে মক্কারগোলের এই রহস্যময় মৃত্যুর আসল ঘটনা।

Related Posts

ধলাইয়ের সপ্তগ্রামে পুলিশের অভিযানে কোটি টাকার ইয়াবা ও বিপুল বার্মিজ সুপারি উদ্ধার, জালে দুই পাচারকারী

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৩ আগষ্টঃ যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার অন্ধকার খেলায় মেতে উঠেছে মাদক মাফিয়ারা। তবে এবার সেই বিষাক্ত জালে বড়সড় থাবা বসাল ধলাই থানার পুলিশ।…

কাটিগড়ার ধলছড়ায় পানীয় জলের হাহাকার, ড্রেনের বিষাক্ত জল খেয়ে কাটছে দিন, কোথায় হারিয়ে গেলেন বিধায়ক?

ধলছড়ার ৫০টি পরিবারের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি, প্রতিশ্রুতি না মিটলে রাজপথ অবরুদ্ধ করার কড়া বার্তা এলাকাবাসীর বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৩ আগষ্টঃ ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌছে দেওয়া হবে, নির্বাচনের মুখে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *