কাটাখালে ধলাই পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ১০ হাজার ইয়াবা সহ আন্তঃজেলা মাদক চক্রের সদস্য সন্দেহে এক ব্যক্তি

ঘটনাকে ঘিরে সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ধলাই থানার পুলিশ মঙ্গলবার গভীর রাতে কাটাখাল এলাকায় বিশেষ নাকা চেকিং শুরু করে। সেই সময় সন্দেহজনকভাবে আসা A.S11CC. 4449 নম্বরের একটি অটো রিক্সাকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় অটোর ভিতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ অটো চালক তথা মাদক পাচারকারী হীরা মনি চৌধুরীকে আটক করে।

ধৃত পাচারকারীর বাড়ি কচুদরম থানা এলাকার হায়দার বাজারে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে বলেও সূত্রের খবর। অনুমান করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা ব্যবহার করে বরাক উপত্যকায় ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট কোথা থেকে আনা হচ্ছিল এবং কার হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

এদিনের অভিযানে নেতৃত্ব দেন ধলাই থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সোমেশ্বর কোঁওর এবং লায়লাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দীবাকর গগৈ। তাঁদের নেতৃত্বে পুলিশের তৎপরতা এবং সাহসী অভিযানের প্রশংসা করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের বক্তব্য, ধলাই ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দিনদিন যেভাবে মাদকের বিস্তার ঘটছে, তাতে যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে বহু তরুণ সহজেই এই নেশার জালে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক অবক্ষয়ও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ, কিছু অসাধু মাদক ব্যবসায়ী দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভে গোটা সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইয়াবার মতো ভয়ংকর মাদক শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির জীবন নয়, একটি পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ধ্বংস করে দিতে পারে। অথচ এই মরণ নেশাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা। সমাজের একাংশের দাবি, শুধু ছোটখাটো পাচারকারীকে ধরলেই হবে না, এর সঙ্গে জড়িত মূল চক্র ও প্রভাবশালী মদতদাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত পাচারকারীর বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে কঠোর মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গোটা চক্রের সন্ধানে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত ও জাতীয় সড়ক এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। ধলাই পুলিশের এই সাফল্যের পর সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন আরও কঠোর হোক এবং যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখুক।

Related Posts

ভোটে হেরে ইভিএম ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করাই কংগ্রেসের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে: শ্রীভূমি জেলা বিজেপি

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি তুলে কংগ্রেস দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে: সঞ্জীব বণিক বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩০ সেপ্টেম্বরঃ নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী কংগ্রেস ও শাসকদল বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর ফের তীব্র হয়ে…

পুজোর দোরগোড়ায় মদে ভাসছে কাটিগড়া! আবগারি ও পুলিশের সুরক্ষায় রমরমিয়ে চলছে অবৈধ কারবার

গুমড়ায় ধৃত মদ ব্যবসায়ীদের বিস্ফোরক বয়ান, ওয়াইন শপে টাকা জমা দিয়েই চলত পুলিশের ম্যানেজ ফর্মুলা! বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩০ সেপ্টেম্বরঃ দোরগোড়ায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে যখন কাটিগড়া জুড়ে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *