পরিদর্শনে গিয়ে ১০ লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা বিধায়ক আমিনুল হকের
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর খেলায় চরম অনিশ্চয়তা আর গভীর আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে শিলচর শিক্ষা খণ্ডের অধীন উত্তর কৃষ্ণপুর আউলিয়া টিলার ঐতিহ্যবাহী ‘মানব সেবা এলপি স্কুল’-এর কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের। প্রায় ৪০ ফুট উঁচু এক ঝুঁকিপূর্ণ টিলার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই বিদ্যালয়টি আজ ধসের মুখে এক ভয়াবহ টাইম বোমায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ভূমি মালিকদের অপরিকল্পিত ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাটি কাটার ফলে স্কুল ভবনটির অস্তিত্ব আজ চরম সংকটের মুখে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে বুধবার দুপুরে জেলা শিক্ষা আধিকারিক (ডিআই অব স্কুল) এবং শিক্ষা বিভাগের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আকস্মিক স্কুল পরিদর্শনে যান সোনাইর জনপ্রিয় বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর। ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্কুলের এই বিপন্ন ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি দেখে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূমি থেকে প্রায় ৪০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই প্রাচীন বিদ্যালয়টির চারপাশের মাটি অবৈজ্ঞানিক উপায়ে কেটে নেওয়ায় বর্তমানে স্কুলের দু’দিকে মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুট মাটি অবশিষ্ট রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিপাত বা একটু তীব্র কম্পনই কেড়ে নিতে পারে এই স্কুল ভবনটিকে। যেকোনো মুহূর্তে প্রায় ৪০ ফুট নিচে ধসে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে এখানকার প্রায় ১২০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী। অথচ এমন চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই জীবনের বাজি রেখে প্রতিদিন ক্লাসে অংশ নিচ্ছে তারা।
এদিন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে পুরো টিলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করেন বিধায়ক। পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর তিনি কড়া সুরে বলেন, “টিলা কেটে সমান করে স্কুলটিকে নিচে না নামালে যেকোনো মুহূর্তে একটি ভয়াবহ বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
অবৈজ্ঞানিক উপায়ে মাটি কাটার এই প্রবণতা আর বরদাস্ত করা হবে না। শিক্ষার্থীদের জীবন ও ভবিষ্যতের সুরক্ষায় কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর। তিনি নিজের আপদকালীন তহবিল থেকে স্কুলটির পরিকাঠামোগত উন্নয়নে ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
শুধু তাই নয়, একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি। বিধায়ক জানান, আপদকালীন তহবিলের ১০ লক্ষ টাকার পাশাপাশি সর্বশিক্ষা মিশন, স্থানীয় জেলা পরিষদ, গ্রাম পঞ্চায়েত (জিপি) এবং আঞ্চলিক পঞ্চায়েত (এপি) সদস্যদের তহবিল একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হবে। নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েক মাসের জন্য ক্লাসগুলি সাময়িকভাবে অন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সুব্যবস্থাও করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
পাশাপাশি, কড়া বার্তা দিয়ে বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এখন থেকে এই টিলার মাটি কোনোভাবেই অবৈধভাবে বিক্রি করা যাবে না। একমাত্র সরকারি নিয়ম মেনেই মাটির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, হিন্দু-মুসলিম ও হিন্দি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মেলবন্ধনের প্রতীক এই বিদ্যালয়টিতে ১২২ নম্বর ভোটকেন্দ্রও অবস্থিত। এই ঝুঁকিপূর্ণ টিলায় বসবাসকারী প্রায় ৫০টি পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এদিন বিদ্যালয় পরিদর্শনের পাশাপাশি এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ, পানীয় জল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্যান্য নানা মৌলিক সমস্যার খোঁজখবর নেন বিধায়ক এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। বিধায়কের এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষা বিভাগের আধিকারিকরাসহ এলাকার সাধারণ মানুষ।






