বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২২ আগষ্টঃ মেঘালয়ের শিলংয়ে খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ)-এর সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হিংসাত্মক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে শীঘ্রই আন্তঃসরকারি বৈঠকে বসতে চলেছে অসম ও মেঘালয় সরকার। দুই রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশ মহাপরিচালকদের পর্যায়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অসমের সীমান্ত সুরক্ষা ও উন্নয়নমন্ত্রী অতুল বরা।
শুক্রবার গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অতুল বরা বলেন, মেঘালয় সরকার বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে। দুই রাজ্যের প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিলংয়ের ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বুধবার একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হিংসার জেরে অসম ও মেঘালয়ের বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই গাড়িগুলিতে থাকা বহু যাত্রী, এমনকি শিশুরাও আহত হয়েছে বলে তিনি জানান।
অতুল বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমার সঙ্গে কথা বলেছেন। আটকে পড়া অসমের বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, অসম ও মেঘালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সীমান্ত সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যা দুই রাজ্যের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে, আবার কিছু বিষয় এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তাই যেকোনও সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী চরণ বরোও শিলংয়ের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, মেঘালয়ে যাওয়া অধিকাংশ পর্যটকই অসমের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করেন। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে দুই রাজ্যের অর্থনীতি ও মানুষের স্বার্থ জড়িত থাকায় এই ধরনের ঘটনা উভয় রাজ্যের জন্যই ক্ষতিকর।
এদিকে, অসম জাতীয়তাবাদী যুব-ছাত্র পরিষদও শিলংয়ে অসমের পর্যটক, গাড়িচালক ও যানবাহনের ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ করেছে। সংগঠনের সভাপতি পলাশ চাংমাই অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মেঘালয় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং যানবাহন ও অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। পলাশ আরও দাবি করেন, ভবিষ্যতে অসমে কেএসইউকে কোনও সাংগঠনিক কর্মসূচি করার অনুমতি না দেওয়া হোক।
অন্যদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবারও জোরাবাট এলাকায় প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল। বিক্ষোভকারীরা মেঘালয়ের নম্বরযুক্ত যানবাহন আটকে দিয়ে মহাসড়কে প্রতিবাদ দেখান। হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই রাজ্যের সরকারের মধ্যে আসন্ন বৈঠকে নিরাপত্তা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, যানবাহনের ক্ষতিপূরণ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।






