নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি রেখে দাস কলোনি পঞ্চায়েত রোডের সংস্কার কাজের সূচনা বিধায়ক ড. রাজদীপ রায়ের

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে অবশেষে পূর্ত দপ্তরের মাধ্যমে রূপায়িত হতে চলেছে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প। অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে বিধায়ক ড. রাজদীপ রায় জানান, অসম সরকারের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে দাস কলোনি এলাকার ১৮০ মিটার থেকে ১২০০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তাটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনর্নির্মাণ করা হবে।

শুধু দাস কলোনি পঞ্চায়েত রোডই নয়, এর পাশাপাশি সংলগ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শ্যামানন্দ আশ্রম রোডেরও ব্যাপক উন্নয়ন ও সংস্কার করা হবে। এনডিআরএফ তহবিলের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই পুরো প্রকল্পের জন্য মোট ৬০.৭৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঠিকাদার মদন মোহন পালকে।

কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা উপলক্ষে এ দিন এলাকায় একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নানা সমস্যার কথা বিধায়কের সামনে তুলে ধরেন। রাস্তাঘাট বেহাল হওয়ার পাশাপাশি এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা (ড্রেনেজ) এবং ক্রমবর্ধমান যানজটের মতো গুরুতর সমস্যাগুলি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা মন দিয়ে শুনে বিধায়ক ড. রাজদীপ রায় জানান, জনকল্যাণমূলক এই কাজগুলি দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি এলাকার নিকাশি ও যানজট সমস্যা দূর করতেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বছরের পর বছর ধরে ভাঙচুরা রাস্তার কারণে স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ সকলকেই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। অবশেষে সেই দুর্দিনের অবসান ঘটতে চলায় এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত। দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে কাজ শুরু হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ বিধায়ক ড. রাজদীপ রায়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনায় ভূষিত করেন।

উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি কর্মসূচিটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এ দিন উপস্থিত ছিলেন, ইঞ্জিনিয়ার সুজিত বৈষ্ণব, বিধায়ক নমিনি পুলক দাস, প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিমলেন্দু রায়, প্রাক্তন পৌর কমিশনার অসীম দাস, অমিতেশ চক্রবর্তী, মুন্না লস্কর, টিপ্পু লস্কর ও ড. সেলিম উদ্দিন লস্কর সহ অসংখ্য বিজেপি কর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে যেভাবে দিনের পর দিন শিলচরের বিভিন্ন এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিধায়ক, তাতে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

বিজেপির বোর্ড, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট কোথায়?

১০০ ভোটারের মধ্যে বিজেপির পাশে প্রায় ৩৫ জন, বিরোধী ভোট ছড়িয়েই কি গেরুয়া বোর্ডের রাস্তা পরিষ্কার? রাজু দাস, বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ১১ অক্টোবরঃ শিলচর শহরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিজেপিকে ভোট দেননি।…

অহংকার, টিকিট-বাণিজ্য আর স্বজনপোষণের মাশুল!

নিজ গড়ে সজল আচার্যের বধ, শিলচরে কংগ্রেসের ‘রাজনৈতিক সলিল সমাধি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১০ অক্টোবরঃ কাছাড় জেলা কংগ্রেস সভাপতি সজল আচার্য এখন মুখ লুকাবেন কোথায়? নাকি আগের মতোই আবার বুক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *