৩০৬ নম্বর শিলচর–আইজল জাতীয় সড়কে বেপরোয়া ই-রিকশার বলির পাঁঠা যাত্রী!

সোমবার দুপুরে ৩০৬ নম্বর শিলচর–আইজল জাতীয় সড়কের কাবুগঞ্জের পাকইবিল এলাকায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন একই পরিবারের দুই সদস্য। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও চারজন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে দু’বছরের এক অবোধ শিশুও।

স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার দুপুর সাড়ে ১টা নাগাদ শিলচরের তরণী রোড এলাকা থেকে একটি পরিবার ই-অটোয় (নম্বর: AS-11-C-5218) সওয়ার হয়ে ধলাই সপ্তগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু কাবুগঞ্জের পাকইবিল এলাকায় পৌঁছাতেই উল্টো দিক থেকে আসা একটি স্কুল ভ্যান (নম্বর: AS-11-FC-3818) সজোরে ধাক্কা মারে যাত্রীবোঝাই ই-অটোটিকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, স্কুল ভ্যানটির গতি এতটাই মারাত্মক ছিল যে, চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। তীব্র ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন।

দুর্ঘটনার পরই বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা ৫৮ বছর বয়সি বেবুল উদ্দিন লস্কর এবং মাত্র দুই বছরের এক দেবশিশু, মেহনাজ বেগম লস্করকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সায়রা বেগম লস্কর, সোহানা বেগম লস্কর, সাবির উদ্দিন লস্কর এবং পাঁচ বছরের শিশু সুহানি বেগম লস্কর। মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের কয়েকজনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর এবং তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একই পরিবারের দুজন সদস্যের অকালমৃত্যু এবং চারজনের সংকটাপন্ন অবস্থায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি আমাদের সড়ক ব্যবস্থা ও চালকদের চরম বেপরোয়া মনোভাবের এক জ্যান্ত দলিল। সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে জাতীয় সড়কের মতো ব্যস্ত রাস্তায় যেভাবে যানবাহন ছোটানো হয়, তা প্রায়শই ডেকে আনছে এমন নির্মম পরিণতি। বিশেষ করে স্কুল ভ্যানের মতো সংবেদনশীল বাহনের চালক কীভাবে এতটা অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, ৩০৬ নম্বর জাতীয় সড়কে প্রতিনিয়ত ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো একটি নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অনুপস্থিতির কারণেই কি এমন বেপরোয়া চালকরা পার পেয়ে যাচ্ছেন? আজ একটি পরিবারের ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেল, তার দায় কে নেবে?

আইনের তোয়াক্কা না করা এমন ঘাতক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সড়ক নিরাপত্তায় অবিলম্বে কড়া নজরদারির দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ অঞ্চলবাসী। কারণ, বেপরোয়া গতির লাগাম না টানলে কাল যে অন্য কোনো পরিবারের স্বপ্ন এভাবেই পিষে যাবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

Related Posts

লালা হাসপাতালে পরিষেবা নয় যেন নার্সের চোখরাঙানি!

যন্ত্রণায় কোঁকাচ্ছে রোগী, আড্ডায় ব্যস্ত নার্স! সরকারি হাসপাতালে এত তাড়া কিসের? নার্সের কুকথায় ক্ষুব্ধ লালাবাসী বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৮ আগষ্টঃ এটা কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল নয়, সরকারি হাসপাতাল! এত তাড়াহুড়ো কিসের?…

ভারতের রেলস্টেশনে জলের নামে বিষ গিলছেন ট্রেনের যাত্রীরা! ওয়াটার কুলারে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া ই-কোলাইয়ের থাবা

হাওড়া, শিয়ালদহ ও নয়াদিল্লির কঙ্কালসার চেহারা, স্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে রেলের চরম উদাসীনতা বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৮ আগষ্টঃ রেল প্ল্যাটফর্মে তৃষ্ণা মেটাতে গিয়ে গ্লাসে ভরা জল যে আসলে মারণ ব্যাকটেরিয়ার…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *