ভূমিহীনদের ভূমি পট্টা, জাতিগত প্রমাণপত্র পুনঃপরীক্ষণ ও কৈবর্ত উন্নয়ন পরিষদ গঠনের দাবি সঞ্জীব দাসের
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ আগষ্টঃ স্বাধীনতা দিবসের একদিন পর আজ বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলার শিলচরের বঙ্গভবনে কৈবর্ত সমাজ কল্যাণ মঞ্চের উদ্যোগে কৈবর্ত সমাজের অধিকার ও বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে একটি বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক দশক ধরে বঞ্চিত অসমের অনুসূচিত জাতি তথা কৈবর্ত সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকারের দাবিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, সমাজকর্মী ও বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
অসম সরকারের মন্ত্রী কৌশিক রায়, অনুসূচিত জাতি সংগ্রামী যুব পরিষদের সভাপতি সঞ্জীব দাস এবং মুখ্য উপদেষ্টা পবিত্র হাজরিকার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারের বিরুদ্ধে অসমের কৈবর্তদের বিভিন্ন দাবি পূরণ না করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ভূমি পট্টা প্রদান এবং ভুয়ো প্রমাণপত্রের মাধ্যমে অনুসূচিত জাতির সংরক্ষিত পদে চাকরি করে থাকা অবৈধ চাকরিজীবীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত না করায় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুসূচিত জাতি সংগ্রামী যুব পরিষদের সভাপতি সঞ্জীব দাস একাধিক দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, আজ আমাদের সামনে বহু সমস্যা রয়েছে। অসমে আজ হাজার হাজার মানুষ অনুসূচিত জাতিভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও অনুসূচিত জাতির সংরক্ষিত পদে চাকরি করছেন। অনুসূচিত জাতি সংগ্রামী যুব পরিষদ গত দুই দশক ধরে এই বিষয়টি নিয়ে লড়াই করে আসছে।

বরাক উপত্যকার অন্যতম সংগঠন তথা সভার আয়োজক কৈবর্ত সমাজ কল্যাণ মঞ্চের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে সঞ্জীব দাস বলেন, আজ কাছাড়ের বঙ্গভবনে কৈবর্ত সমাজের মানুষ যেভাবে বেরিয়ে এসেছেন, সেভাবেই অসমের বিভিন্ন প্রান্তে কৈবর্ত সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের মানুষকে সচেতন করতে হবে।
অনুসূচিত জাতি সংগ্রামী যুব পরিষদ ইতিমধ্যে অসমের বিভিন্ন জেলায় জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছে বলে জানান দাস। তিনি বলেন, বহু ব্যক্তির প্রমাণপত্র অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু তাঁরা এখনও চাকরি করছেন। সকলেই ঐক্যবদ্ধ হলে সরকার ওইসব চাকরিজীবীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হবে। সঞ্জীব দাস আরও বলেন, বরাক উপত্যকাতেও বহু মানুষ অবৈধ অনুসূচিত জাতির প্রমাণপত্র ব্যবহার করে চাকরি করছেন।
কিন্তু বরাক উপত্যকায় যেভাবে এই বিষয়টির বিরুদ্ধে লড়াই হওয়া উচিত ছিল, সেভাবে লড়াই করা সম্ভব হয়নি। তাই কৈবর্ত সমাজ কল্যাণ মঞ্চকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন। অবৈধ চাকরিজীবীদের চিহ্নিত করুন। তাঁদের নাম ও ঠিকানা আমাদের দিন। আমরা আজ এই সভায় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে বরাকের অনুসূচিত জাতির মানুষের হয়ে আমরা লড়াই করব।
এরপর সঞ্জীব দাস তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলি হল—শীঘ্রই সমস্ত অনুসূচিত জাতিভুক্ত ভূমিহীন মানুষকে ভূমি পট্টা প্রদান, উচ্চতম ন্যায়ালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী জাতিগত প্রমাণপত্রের পুনঃপরীক্ষণ এবং কৈবর্ত উন্নয়ন পরিষদ গঠন। অন্যদিকে, অসম সরকারের মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার অসমের প্রতিটি জাতি ও জনগোষ্ঠীর সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছে। বরাক উপত্যকার কৈবর্ত সম্প্রদায়ের সমস্যাগুলিও সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, অনুসূচিত জাতি সংগ্রামী যুব পরিষদের মুখ্য উপদেষ্টা পবিত্র হাজরিকা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার ৮০ বছর পার হয়ে গেলেও অসমের কয়েক হাজার অনুসূচিত জাতিভুক্ত মানুষ এখনও ভূমিহীন অবস্থায় রয়েছেন। বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর সংবিধানের মাধ্যমে যে অধিকার দিয়ে গিয়েছিলেন, তা আজও তাঁরা পূর্ণাঙ্গভাবে লাভ করতে সক্ষম হননি।
এই অধিকার আদায়ের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আজকের সভায় কৈবর্ত সমাজ কল্যাণ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. রামকান্ত দাস, বিধায়ক ড. রাজদীপ রায়, অমিয় কান্তি দাস, রাজদীপ গোয়ালা, মিলন দাস, জেলা বিজেপির সভাপতি রূপম সাহা, কঙ্কন নারায়ণ সিকিদার, দীপায়ন চক্রবর্তী সহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।






