বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ২৭ অক্টোবরঃ অনলাইন আর অফলাইনের বৈষম্য এবার ঘুচতে চলেছে ভারতীয় রেলওয়ের টিকিটিং ব্যবস্থায়। এতদিন ধরে কাউন্টার থেকে কেনা টিকিটের যাত্রীরা যে অধিকার ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতেন, সেই দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া ও যুগান্তকারী নির্দেশের পর এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় রেলওয়ে।
আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে আইআরসিটিসি এর অনলাইন টিকিটের পাশাপাশি দেশের যেকোনো রেল স্টেশনের কাউন্টার থেকে কেনা অফলাইন টিকিটগুলিও পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ বিমার আওতায় চলে আসছে। দীপাবলির ঠিক প্রাক্কালে কোটি কোটি সাধারণ রেলযাত্রীর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আদালতের এই নির্দেশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সাধুবাদযোগ্য বলে মনে করছে সচেতন মহল।
ভারতীয় রেলওয়েতে সফররত যাত্রীদের দুর্ঘটনাজনিত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে আর্থিক সুরক্ষা প্রদানের জন্য ভ্রমণ বিমা বা ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরেই রয়েছে। কিন্তু এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় গলদ বা সীমাবদ্ধতা ছিল পদ্ধতিগত। এতদিন ধরে কেবল যাঁরা আইআরসিটিসি-এর ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কাটতেন, শুধুমাত্র তাঁরাই বুকিং প্রক্রিয়ার সময় ভ্রমণ বিমার সুবিধা পেতেন।
এর ফলে দেশের অগণিত সাধারণ মানুষ যাঁদের স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ নেই, ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে যাঁরা পরিচিত নন, কিংবা যাঁরা গ্রামীণ বা প্রান্তিক অঞ্চল থেকে সরাসরি রেল স্টেশনের রিজার্ভেশন কাউন্টারে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সম্পূর্ণভাবে এই বিমা সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতেন।
ডিজিটাল ব্যবস্থার সুযোগ না নেওয়ার কারণে অফলাইন যাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ধরনের দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি হয়েছিল, যা নিয়ে বহু দিন ধরেই প্রশ্ন তুলে আসছিল বিভিন্ন ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও সচেতন মহল। যাত্রী সুরক্ষার এই বৈষম্য দূর করতে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয়। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল, রেলওয়েতে সফরকারী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তার অধিকার সমান।
দুর্ঘটনা বা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির ক্ষেত্রে অনলাইন বা অফলাইন টিকিটের ভিত্তিতে যাত্রীদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করা আইনসম্মত হতে পারে না। আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর করতেই নড়েচড়ে বসে রেলমন্ত্রক ও আইআরসিটিসি কর্তৃপক্ষ। অবশেষে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে কাউন্টারের টিকিটেও অনলাইন টিকিটের মতো সমানভাবে বিমা সুরক্ষা সম্প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উৎসবের মরশুম, বিশেষ করে দীপাবলি ও ছটপূজার এই ব্যস্ততম সময়ে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনেই নিজেদের গন্তব্যে যাতায়াত করেন। উৎসবের এই ভিড়ভাট্টার মধ্যে রেলযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে সবসময়ই এক ধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করে সাধারণ মানুষের মনে।
এমন এক সময়ে কাউন্টারের টিকিটে বিমা সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার খবর নিশ্চিতভাবেই স্বস্তি এনে দিয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মনে। এখন থেকে কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা সাধারণ শ্রমিক, প্রান্তিক কৃষক, বয়স্ক মানুষ বা ডিজিটাল পরিষেবা থেকে দূরে থাকা প্রতিটি যাত্রীও যেকোনো অনভিপ্রেত দুর্ঘটনায় আর্থিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা পাবেন।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কাউন্টারের টিকিটেও বিমা সুরক্ষা বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় রেলওয়ের যাত্রী কল্যাণমূলক পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। বুকিং পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে যে সামাজিক বৈষম্য তৈরি হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তা আজ দূর হলো।
আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন ব্যবস্থার ফলে দেশের কোণে কোণে ছড়িয়ে থাকা সাধারণ রেলযাত্রীরা আরও বেশি আস্থার সঙ্গে রেলযাত্রা করতে পারবেন। দুর্ঘটনা বা সংকটজনক পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলির আইনি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই রায় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।




